দেশজুড়ে

জোবায়েরকে শিবিরের রাজনীতি থেকে সরাতে পারেনি বাবা-মা

রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির মধ্যে ৭ জনের পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। এর মধ্যে নোয়াখালী সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের পশ্চিম মাইজদী গ্রামের আবদুল কাইয়ুমের ছেলে জোবায়ের হোসেন রয়েছে।অবশ্য নিহত জোবায়ের হোসেনের বাবা আবদুল কাইয়ুম ও মাতা আয়েরা বেগম বুধবার ফেসবুক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ছবি দেখে অনেকটা নিশ্চিত ছিলেন যে এদের মধ্যে তাদের সন্তান জোবায়ের হোসেন (২০) রয়েছেন। পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীদের মা আয়েরা বেগম বলেছিলেন, আমি ৯ মাস তাকে গর্ভে ধারণ করেছি। আমি আমার সন্তানকে চিনতে পারবো না এটা কি করে হয়।জোবায়ের হোসেনের বাবা আবদুল কাইয়ুম তার ছেলে শিবিরের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বলেছিলেন, তার ছেলে যে বিপদগামী হচ্ছেন তিনি বুঝতে পেরে চেষ্টা করেছেন তাকে জামায়াত-শিবিবের পথ থেকে ফেরানোর জন্য। কিন্তু তিনি তা পারেননি। তাকে একবার তাবলীগে পাঠানো হয়েছিলো। একই বাড়ির তার ভাতিজা খালেদ মোহাম্মদ আলী ওরফে বাহাদুরের ব্যাপারে বলেন, সেও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল  এবং কিছুদিন আগে সে নিখোঁজও হয়। তার পাল্লায় পড়ে আমার ছেলের আজ এ অবস্থা।এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জোবায়ের স্কুল জীবনে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। বিশেষ করে নোয়াখালীর মাইজদীতে জামায়াত-শিবিরের ঘাঁটি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল ফারুক একাডেমীতে লেখপড়া করা অবস্থায় সে শিবিরের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।বিষয়টি তার বাবা-মা ও পরিবারের সদস্যরা জানতে পেরে আল ফারুক একাডেমী থেকে তাকে নিয়ে নোয়াখালী জিলা স্কুলে ভর্তি করায়। সেখান থেকে সে এসএসসি পাশ করে। পরে তাকে নোয়াখালী সরকারি কলেজে ভর্তি করানো হয়। সর্বশেষ সে নোয়াখালী সরকারি কলেজের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স (সম্মান) ১ম বর্ষের ছাত্র ছিলো। কিন্তু জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি থেকে তাকে সরানো যায়নি।  সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, বাহাদুর দীর্ঘদিন পর্যন্ত সৌদি আরব ছিল। গত ৬-৭ বছর পূর্বে সে দেশে ফিরে আসে। কিন্তু দেশে এসেও সে কোনো কাজ করতো না। কোথায় থাকতো কেউ জানতো না। কয়েক দিন পর পর বাড়িতে আসতো। বাড়িতে আসলেই জোবায়েরসহ স্থানীয় কিছু যুবককে সঙ্গে নিয়ে নানা অপকর্ম করতো। সে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিল। সর্বশেষ গত ৪ মে নিখোঁজ হয় বাহাদুর। এ ঘটনায় ১৪ জুলাই তার স্ত্রী সাহেদা বেগম সুধারাম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। বাহাদুরের চাচা নুরুল আমিন জানান, নিখোঁজের কয়েকদিন আগে বাহাদুর তার একটি জমি বিক্রির বায়না করে ৮-১০ লাখ টাকা নিয়ে চলে যায়। তার আচার-আচরণ ছিল সন্দেহজনক। তিনি, বাহাদুরের আপন ভাইসহ বাড়ির প্রায় লোকের সঙ্গে বাহাদুরের ঝামেলা হয়েছে। অনেককে সে হত্যার হুমকিও দিয়েছে।এদিকে মঙ্গলবার র‌্যাব নোয়াখালীতে নিখোঁজদের আরো একটি তালিকা প্রকাশিত করে। সেখানে জোবায়ের ও বাহাদুরের নাম ছিল না। তবে চাটখিল উপজেলার ছয়ানী টবগা গ্রামের মো. মাকছুদের রহমান কিশোরের ছেলে হাফেজ মো. হাবিবুর রহমান ওরফে ইয়াছিন (১৬) নামে একজনের নাম প্রকাশিত হয়। সে বেগমগঞ্জ উপজেলার চৌমুহনী চৌরাস্তার দারুল কুরআন মাদরাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র। তার সম্পর্কে পুলিশ তদন্ত করছে বলেও এসপি জানান। মিজানুর রহমান/ এমএএস/পিআর