দেশজুড়ে

মংলা বন্দরে এক পদে দুই কর্মকর্তার নিয়োগ

বাগেরহাটের মংলা বন্দরে দুই মন্ত্রণালয় থেকে একই পদে দুইজন কর্মকর্তার নিয়োগ নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য প্রকৌশল ও উন্নয়ন পদে ওই দুই কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (নৌ) মো. আলতাফ হোসেন খাঁনকে নিয়োগ দিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। তার নিয়োগের আড়াই মাস পর একই পদে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সিকদারকে একই পদে নিয়োগ দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। আর এ নিয়ে বন্দরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অপরদিকে একই পদে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বিব্রত বন্দর ব্যবহারকারীরাও। মংলা বন্দর সূত্র জানায়, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য সরকার একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন সদস্য নিযোগ দেয়। নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে তাদের সরকার নিয়োগ দিয়ে থাকে। তাদের দ্বারা মংলা বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। সদস্য পদের মধ্যে (হারবার ও মেরিন), সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) এবং সদস্য (অর্থ) এ তিনটি পদ রয়েছে। প্রথম দুইটি পদ সম্পূরূপে কারিগরী এবং তৃতীয়টি অ্যাকাউন্টস বা সাধারণ। নিয়ম অনুয়ায়ী সদস্য (হারবার ও মেরিন), সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগ প্রদানের ক্ষেত্রে বন্দর পরিচালনায় অভিজ্ঞ ও কর্মরত উপযুক্ত কর্মকর্তা দিয়ে পূরণ করার বিধি-বিধান রয়েছে। ১৯৮৮ সালের ২৮ এপ্রিল এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার সংস্থাপন মন্ত্রণালয় (বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়)। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ই তাদের প্রণীত নিয়ম-নীতি লঙ্ঘন করে বন্দরে কারিগরী পদে প্রশাসন ক্যাডারের সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত এক গ্রেড নিচের কর্মকর্তাকে উপরের গ্রেডের বন্দরের সদস্য পদে প্রেষণে নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়া মাত্র আড়াই মাসের ব্যবধানে দুই দফায় পদ পরিবর্তনের প্রজ্ঞাপনও জারি করে।মংলা বন্দর সূত্র আরো জানায়, গত ১২ মে বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (নৌ) মো. আলতাফ হোসেন খাঁনকে অভিজ্ঞ প্রকৌশলী হিসেবে নৌ-পরিবহন মন্ত্রনালয় থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) দায়িত্ব প্রদান করা হয়। সে থেকে তিনি তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অপরদিকে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে গত ৯ মে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র সিকদারকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষে সদস্য পদে নিয়োগ দেয়া হয়। তার এ নিয়োগের পর তিনি গত ১৯ জুন বন্দরে যোগদান করেন।পরবর্তীতে ২৩ জুন বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান তাকে সদস্য (হারবার ও মেরিন) পদে পদায়ন করেন। এরপর থেকে তিনি ওই পদেই দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে প্রায় আড়াই মাস পর গত ২৪ জুলাই জন প্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ৯ মে’র পৃথক সংশোধন পূর্বক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে বিকাশ চন্দ্র সিকদারকে মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়। এদিকে, প্রকৌশলী না হওয়া সত্বেও একজন প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাকে সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারিকে কেন্দ্র করে ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। আর একই পদে দুই কর্মকর্তার পদায়ন নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে, এ নিয়ে বন্দর ব্যবহারকারী বিব্রত অবস্থার মধ্যে পড়েছেন। শিপিং এজেন্ট ইউনিট মেরিটাইম লিমিটেডের প্রতিনিধি শেখ বদিউজ্জামান টিটুুসহ কয়েকজন বন্দর ব্যবহারকারী জানান, এ বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে তাদের বিব্রতবোধ অবস্থার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া সুষ্ঠু বন্দর পরিচালনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে এবং বন্দরের সরকারের ‘ভিশন ২০২১’ মোতাবেক বন্দরের উন্নয়ন ব্যাহত হতে পারে বলে মনে করেন বন্দর ব্যবহারকারীরা।মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়াল অ্যাডমিরাল রিয়াজ উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বর্তমানে আলতাফ হোসেন খাঁন সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) এবং বিকাশ চন্দ্র সিকদার সদস্য (হারবার ও মেরিন) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে একই পদে দুই কর্মকর্তার এ নিয়োগের ক্ষেত্রে হয়তো কোথায় ত্রুটি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। আশা করছি, এ বিষয়ে দ্রুত সংশোধনী আসবে। শওকত আলী বাবু/এআরএ/এমএস