ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধ ভেঙে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি ইউনিয়নের সিংড়িয়া এলাকায় সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার রাতে ব্রহ্মপুত্র নদের বাঁধ ভেঙে এসব গ্রাম প্লাবিত হয়।গ্রামগুলো হচ্ছে- ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালি ইউনিয়নের সিংড়িয়া, পূর্ব উদাখালি, পশ্চিম উদাখালি, পূর্ব ছালুয়া, পশ্চিম ছালুয়া, কাঠুর এবং একই উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারি।এদিকে, ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে ওইসব গ্রামের মানুষ বাঁধ ভাঙার খবর শোনার পরপরই তাদের গোলার ধান, চাল, গবাদিপশু ও অন্যান্য মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। তারপরও রাতের অন্ধকারে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের।এলাকার সমাজসেবী ভব রায় জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই সিংড়িয়া বাঁধের কয়েকটি পয়েন্ট দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এবার বন্যায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনায় অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির ফলে সিংড়িয়া বাঁধ আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। গত কয়েকদিন ধরে সেটিতে ফাটল দিয়ে পানি আসছিল। পাশাপাশি বাঁধ সংলগ্ন সড়কও পানির চাপে উপচে যায়।উদাখালি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সচিব মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, বন্যায় বাঁধটির একাধিক অংশ হুমকির মুখে পড়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশাপাশি এলাকাবাসী স্বেচ্ছা শ্রমে বাঁধটি রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। শুক্রবার দিনভর সাধারণ মানুষ সড়কটিকে নানাভাবে রক্ষার চেষ্টা করেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রকৌশলী জানান, রাত সাড়ে ১১টার মধ্যে বাঁধটির অন্তত ২শ’ মিটার ধসে যায়। কোনো কোনো স্থানে বাঁধের উপর দিয়ে গ্রামগুলোতে পানি ঢুকছে। রাতে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটতে পারে। গাইবান্ধা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রকাশ কৃঞ্চ সরকার রাত ১২টার দিকে জানান, গত তিনদিন ধরে বালুভর্তি বস্তা ফেলে ঝুঁকিপূর্ণ এই বাঁধটি রক্ষায় চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু যমুনা নদীর পানির চাপে রাতে ভেঙে যায়।এদিকে, বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকছে। বিশেষত পাশ্ববর্তী সোনাইল বাঁধ ও গাইবান্ধা-সাঘাটা সড়ক হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।অমিত দাশ/আরএস