বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বন্যাদুর্গতের পাশে না দাঁড়িয়ে তিনি নিজেই ঘরে বসে সরকার নির্বিকার বলে অভিযোগের সেই পুরনো ভাঙা রেকর্ড বাজিয়ে যাচ্ছেন। বিএনপি বন্যাদুর্গতের পাশে নেই। আছে আওয়ামী লীগ সরকার ও শেখ হাসিনার সরকার। সেতুমন্ত্রী বলেন, যেখানে প্রধানমন্ত্রী কর্মসূচি দিয়েছেন তিনি কুড়িগ্রাম ও জামালপুরে যাবেন ৬ তারিখে এবং দলের আটটি টিম বন্যাদুর্গতের পাশে গিয়ে কাজ করছে। তিনি (সেতুমন্ত্রী) নিজেও যেখানে বন্যাদুর্গত এলাকা মানিকগঞ্জে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন। সংসদ অধিবেশনও একদিন আগে শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সকল সংসদ সদস্যকে এলাকায় জঙ্গিবিরোধী কমিটি গঠন ও বন্যাদুর্গতের পাশে থাকার কথা বলেছেন।বুধবার বেলা ১২টার দিকে নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ ১৫ কি.মি. লাইন, ঘোষবাগ-জৈনতপুর পাকা সড়ক, কবির পাটোয়ারী জামে মসজিদ সড়কসহ বেশ কিছু উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন করতে গিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। সেতুমন্ত্রী বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত হলো বন্যা চলাকালে এবং বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন পর্যন্ত শেখ হাসিনার সরকার ও আওয়ামী লীগ বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে থাকবে। অথচ খালেদা জিয়া বলেন, আমরা নির্বিকার। আমরা বন্যার শুরুতেই দুর্গতদের পাশে ‘ওই আর ভেরি মাচ অ্যাকটিভ’। অ্যাকটিভ মানে লোক দেখানো নয়, টেলিভিশনে চেহারা দেখানো নয়। সেতুমন্ত্রী আরো বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকায় অনেক রকম ত্রাণ সামগ্রী ও নগদ টাকা পৌঁছানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে ঘরে ঘরে গিয়েও ত্রাণ সামগ্রী দেয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার ঘাটতি হবে না। বন্যার পানি যখন সরে যাবে, তখন নানা রকম অসুখ দেখা দেবে। তখন ওষুধপত্র দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি রয়েছে। যারা ঘর-বাড়ি হারাবে তাদের ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। এতো কিছু করার পরও বিএনপি বলেছে সরকার নির্বিকার। সরকার কোথায় নির্বিকার? নির্বিকার তো বিএনপি। তারা কোথায় গিয়ে বন্যাদুর্গতের পাশে দাঁড়িয়েছে? তারা নিজেরাই নির্বিকার অথচ সরকারকে দোষারোপ করছে। এটি তাদের পুরনো অভ্যাস কিছু না করে প্রেস ডেকে বলেছে সরকার নির্বিকার। এর আগে মন্ত্রী কবিরহাট উপজেলা ও পৌরসভার উদ্যোগে জঙ্গি ও সন্ত্রাস নির্মূলে আয়োজিত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাজীবী সংগঠনের অংশগ্রহণে মানববন্ধন ও সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খায়রুল আনাম সেলিম, জেলা প্রশাসক বদরে মুনির ফেরদৌস, পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ, কবিরহাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিউলি, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শিহাব উদ্দিন শাহীন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সহেল, কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হানসহ অঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা।মিজানুর রহমান/এআরএ/পিআর