দেশজুড়ে

জিন-ভূতে আছর করা দিপালীকে উদ্ধার

জিন-ভূতের আছরের কথা বলে শেকলে বেঁধে রাখা দিপালী রানী (২২) নামে এক গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন।রোববার দুপুরে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালি ইউনিয়নের খামারচান্দের ভিটা গ্রাম থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। দিপালী ওই গ্রামের সুশীল চন্দ্রের মেয়ে।অপচিকিৎসার নামে কবিরাজ ও ফকির দিয়ে তার ওপর চালানো হয়েছে নানা নির্যাতন। অর্থাভাবে ওই গৃহবধূর ভাগ্যে জোটেনি সুচিকিৎসা।স্থানীয়রা জানায়, দিপালীর বাবা সুশীল চন্দ্র পেশায় একজন রিকশাভ্যান চালক। তিন মেয়ের মধ্যে দিপালী সবার ছোট। ছোট বেলা থেকেই দিপালী রানী স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে ওঠে গ্রামের পরিবেশে। তবে কিছুদিন হলো দিপালী অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে। অর্থাভাবে মেয়েকে সুচিকিৎসা করাতে পারেননি সুশীল চন্দ্র।দিপালীর মা অমলা রানী বলেন, ২০০২ সাল থেকে কিশোরী দিপালী অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ একদিকে তাকিয়ে থাকত, কম কথা বলত, কখনো গুনগুনিয়ে আবার কখনো উচ্চস্বরে শব্দ করত। মেয়ের এই অস্বাভাবিক আচরণ দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। সবাই বলতো ওর ওপর জিন-ভূতের প্রভাব পড়েছে।তাই স্থানীয় ফকির-কবিরাজের কাছে মেয়ের চিকিৎসা করানো হয়। একপর্যায়ে তাদের পরামর্শে চলতি বছরের বৈশাখ মাসে সাঘাটা উপজেলার পুটিমারী গ্রামের গনেশ চন্দ্রের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিই। বিয়েতে মেয়ে জামাইকে ২০ হাজার টাকা যৌতুকও দেয়া হয়।বিয়ের পর প্রায় দুই মাস ভালোই কাটছিল দিপালীর সংসার। কিন্তু এরই মধ্যে আবারো দিপালী তার শ্বশুরবাড়িতে অস্বাভাবিক আচরণ শুরু করে।দিপালীর বাবা সুশীল চন্দ্র জানান, গত ১ আগস্ট দিপালীর স্বামী গনেশ চন্দ্র ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন দিপালীর আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে হাত-পা বেঁধে তার পায়ে শেকল পরান। তার কোনো চিকিৎসা না করে পায়ে শেকল লাগিয়ে হাত-পা বেঁধে ভ্যানে করে পাঠিয়ে দেন বাবার বাড়িতে।কিন্তু এখানেও তাকে শেকলবন্দী হয়ে থাকতে হয়। দুঃখ প্রকাশ করে সুশীল চন্দ বলেন, রিকশা চালিয়ে কোনোরকমে চলে পাঁচজনের সংসার। এ জন্য অর্থাভাবে মেয়েকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে চিকিৎসা করাতে পারিনি।গাইবান্ধা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল মমিন খান জানান, চিকিৎসার নামে শেকল পরিয়ে দিপালী রানী নামে এক নারীকে আটকে রাখা হয়। খবর পেয়ে দুপুরে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। চিকিৎসার জন্য তাকে গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি আরো জানান, দিপালীর চিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। সুচিকিৎসায় তাকে স্বভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।অমিত দাশ/এএম/আরআইপি