লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে মেঘনা নদীর ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত ১৫ দিনে উপজেলার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী কাদির পণ্ডিতের হাট ও লুধূয়া বাজারের ছোট-বড় সহস্রাধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান নদীর পেটে বিলীন হয়েছে। এ অবস্থায় ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও ঘর-বাড়িসহ মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে পথে বসেছে হাজারো মানুষ। এদিকে নদী ভাঙন প্রতিরোধে একাধিকবার স্থানীয় লোকজন বিক্ষোভ, মানববন্ধন, সভা-সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। তারা বছরের পর বছর ভাঙন রোধের দাবি জানিয়ে আসলেও এখনও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে মতিরহাট, মাতাব্বরহাট, হাজীগঞ্জ, নবীগঞ্জ, ইসলামগঞ্জ ও নাছিরগঞ্জ বাজার।জানা গেছে, কাদির পণ্ডিতের হাট ও লুধূয়া বাজার কমলনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাজার। এ বাজারগুলোর সঙ্গে শত বছরের ইতিহাস জড়িত। নদীর ভয়াবহ ভাঙনে বাজার দুটি বর্তমানে নদী গর্ভে। শত বছর আগে পাটারিরহাট, ফলকন ও সাহেবেরহাট ইউনিয়নের মিলনস্থলে লুধূয়া বাজার গড়ে উঠে। তিন ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের ভরসা ছিল বাজারটি। বিশেষ করে জেলে ও মাছ ব্যবসায়ীদের প্রাণকেন্দ্র ছিল লুধূয়া বাজার। এ বাজারে পাঁচশতাধিক দোকান-পাট ছিল।ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত ১৫ দিনে কাদির পণ্ডিতের হাট ও লুধূয়া বাজারের ছোট-বড় সহস্রাধিক ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান নদীর পেটে বিলীন হয়েছে। তারা পুঁজি হারিয়ে পথে বসেছেন। বাজারের কিছু দোকান অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।তিন যুগ ধরে কমলনগরে নদীর ভাঙনের খেলা চলছে। গত কয়েক বছর ধরে ভয়াবহ রুপ নেয়। এতে রাস্তা-ঘাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, আশ্রয়কেন্দ্র, ফসলি জমি ও ঘর-বাড়িসহ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা তলিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. গাজী ইয়ার আলী বলেন, পাউবোর প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সম্প্রতি কমলনগরের ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এখানকার একটি প্রকল্প অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বরাদ্দ এলে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।জরুরি ভিত্তিতে নদী ভাঙন রোধে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে- এমনটাই প্রত্যাশা কমলনগরের দুই লক্ষাধিক মানুষের।কাজল কায়েস/এফএ/এবিএস