২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সকাল ১১টা। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে গাজীপুরের জেলা প্রশাসন চত্বর, গাজীপুর প্রেসক্লাব এলাকা, চান্দনা চৌরাস্তার মোড়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কার্যালয়ের সিঁড়ির নিচেসহ ৯টি স্থান। কিছুক্ষণ পর খবর মেলে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণসহ ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বোমা হামলা চালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অস্তিত্বের জানান দেয়। ১৭ আগস্ট বুধবার সেই ভয়াল সিরিজ বোমা হামলার ১১ বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০০৫ সালের আজকের এই দিনে গাজীপুরের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বোমা হামলা চালানো হয়। সকাল ১১টার দিকে বোমার প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কার্যালয়ের সিঁড়ির নিচে। ব্যবস্ততম এলাকায় বোমা বিস্ফোরণের পর মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মুহূর্তেই জনশূন্য হয়ে পড়ে আদালত ও প্রশাসন চত্বর এলাকা। এরপর একে একে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে জয়দেবপুর কালীমন্দির, গাজীপুর প্রেসক্লাব সংলগ্ন রাজদিঘির পাড়, চান্দনা চৌরাস্তার জাঙ্গত চৌরাঙ্গী, ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজ শহীদ মিনার, ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হল, শিমুলতলী বাসস্ট্যান্ড, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক ও বোর্ড বাজারের আলাউদ্দিন অ্যান্ড তাকওয়া টেক্সটাইলের সামনে। প্রতিটি বিস্ফোরণস্থলে পাওয়া যায় জেএমবির লিফলেট। এসব লিফলেট দেশে ইসলামী আইন বাস্তবায়নে জনগণ, সরকার ও বিচার বিভাগের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সিরিজ বোমা হামলায় স্কুল, কলেজসহ শহরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ হয়ে যায়। মানুষ-জনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ওই দিনই জয়দেবপুর থানায় মামলা দায়ের করে। পরবর্তী মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ স্থানান্তর হয়। ১০ বছর পর গত বছরের ১০ আগস্ট ওই আদালতের বিচারক আবদুর রহমান সরদার ১৭ জেএমবি সদস্যকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক বছরের সাজা প্রদান করেন। রায় ঘোষণাকালে ১৭ জনের মধ্যে গ্রেফতার ১১ জন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এরা হলেন, মো. রোকনুজ্জামান রোকন, মো. মামুনুর রশিদ মামুন, আরিফুর রহমান আরিফ ওরফে হাসিব ওরফে আসিফ ওরফে আকাশ, মো. নিজাম উদ্দিন ওরফে রেজা ওরফে রবি ওরফে কচি ওরফে রনি, আসাদ ওরফে জাহাঙ্গীর, নুরুল হুদা ওরফে দুরুল ওরফে হাসান, মো. মাহবুবুল আলম ওরফে মাহবুব, মো. জহিরুল ইসলাম ওরফে জহির, আফজাল হোসেন ওরফে আদম, কাওসার ও ওমর ফারুক। এছাড়াও রাসেল, আবদুল কাফি, এমএ সিদ্দিক বাবলু, রানা ওরফে আবদুস সাত্তার, মাসুম ওরফে আবদুর রউফ এবং রায়হান ওরফে উবায়েদ মামলার শুরু থেকেই পলাতক। এরা সবাই নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সদস্য বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। আমিনুল ইসলাম/এআরএ/বিএ