নেত্রকোনার হাওর দ্বীপ খ্যাত খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি চিকিৎসকসহ মাত্র ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে চলছে। এতে করে সাধারণ জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।জানা গেছে, উপজেলার অবহেলিত সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার কথা ভেবে ১৯৮২ সালে তৎকালীন হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার ৩০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি স্থাপন করেন। কিন্তু বর্তমানে এই হাসপাতালটি ওই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। এই অঞ্চলের যাতায়াত ব্যবস্থা ভাল না থাকায় এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কোনো চিকিৎসক বেশি দিন থাকতে চান না। কেউ আসলেও দ্রুত বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যান এমন অবস্থা হাসপাতালস্থাপনের শুরু থেকে। হাসপাতালে ডাক্তারসহ ৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজন চিকিৎসকসহ ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। তার মধ্যে রোগীদের সেবা প্রদানের অতন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের জন্য যাদের প্রয়োজন সেই নার্সই নেই এই হাওর পাড়ের হাসপাতালে। কাগজে কলমে খালিয়াজুরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন নার্স রয়েছে। এদের মধ্যে কল্পনা আক্তার নামে একজন গত ১৮ মে বদলি হয়ে ঢাকায় চলে যান। আর পাঞ্চেলী ঢালী এবং মমতাজ বেগম নামে দুই নার্স বেশ কিছুদিন যাবৎ প্রেষণে অন্যত্র কাজ করছেন। ফলে এখানে সেবা নিতে আসা রোগীরা দু`জন চিকিসকের কাছ থেকে পরামর্শ সেবা নিলেও সেবা নিতে পারছেন না হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা।হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রাবেয়া বেগম জাগো নিউজকে জানান, অনেক অসুখ নিয়ে এসেছিলাম কিন্তু এখানে ডাক্তার নেই, একজন ডাক্তার রোগীকে ভাল করে দেখতে পারে না। ডাক্তার ভর্তি হওয়ার পরার্মশ দিয়েছেন। কিন্তু নার্স নেই, মূর্খ মানুষ কখন কি ওষুধ খেতে হয় তা বুঝতে পারি না। তাই বাড়ি চলে যাচ্ছি।বর্তমানে হাসপাতালে সম্পা রানী তালুকদার নামে একজন বেসরকারি নার্স মাঝে মাঝে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি একটি আর্ন্তজাতিক দাতা গোষ্ঠীর সহায়তা পুষ্ট ‘এমএনসিএইচ’ নামক প্রকল্পের নার্স। তিনিও আবার অল্প কিছুদিনের মধ্যে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা গফুর মিয়া জাগো নিউজকে জানান, হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসলে ভাল করে চিকিৎসা নিতে পারি না। ডাক্তারকে প্রশ্ন করলে বলে উপরে জানাইছি সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু কবে হবে নিরসন এই সমস্যার?আমাদের হাসপাতালে একজন ডাক্তার আছেন, নার্স নেই, পর্যাপ্ত ওষুধ পাই না। সরকারের কাছে আসলে গ্রামের মানুষের কোনো দামিই নাই। নাইলে হাসপাতালে চিকিৎসার ভাল ব্যবস্থা নাই কেন?এ ব্যাপারে খালিয়াজুরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. জাকির জাগো নিউজকে জানান, নার্স কম থাকায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি সভিল সার্জনকে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ জন চিকিৎসক নিয়োজিত থাকলেও ২ জন জনবল নিয়ে চলতে হচ্ছে। অবহেলিত ও জেলার পশ্চাৎপদ জনপদের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ ও সমস্যা নিরসনে সরকার জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে এমনটাই প্রত্যাশা ভূক্তভোগী জনসাধারণের।এসএস/আরএস