কুষ্টিয়ায় গড়াই নদীর ওপর কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু রক্ষার জন্য নির্মাণাধীন নদী শাসন বাঁধটি ধসে পড়েছে। সোমবার রাতে সেতু সংলগ্ন এলাকায় সদ্য নির্মিত বাঁধের ৩০ মিটার অংশ নদী গর্ভে চলে গেছে। এখন ধসে পড়ার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। কুষ্টিয়া এলজিইডির তদারকিতে মীর আকতার হোসাইন লিমিটেড নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ রক্ষা বাঁধের কাজ করছে। ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কর্মকর্তাদের দাবি, এ ভাঙনের ফলে সেতুর ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। কুষ্টিয়া এলজিইডি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতু রক্ষার জন্য সেতুর উভয় পাড়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। যা হরিপুর অংশে প্রায় সাড়ে তিনশ মিটার ও কুষ্টিয়া অংশে ৫০ মিটার। কয়েক বছর আগে গড়াই নদীর ওপর কুষ্টিয়া-হরিপুর সংযোগ সেতুর কাজ শুরু হয়। ইতোমধ্যে মূল সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে সেতু রক্ষার জন্য নদী শাসন ও সংযোগ সেতুর নির্মাণ কাজ। সেতুর রক্ষার জন্য হরিপুর ও কুষ্টিয়া শহরের অংশে ব্লক ও বালুর বস্তা ফেলে নদী শাসনের কাজ করা হয়েছে। এখনো কিছু কাজ বাকি আছে। কিন্তু সোমবার সন্ধ্যায় সেতুর পূর্ব দিকে হরিপুর অংশে বাঁধের একটি অংশ পুরোপুরি বিলিন হয়ে গেছে।সরেজমিন দুপুরে গিয়ে দেখা যায়, বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশের ব্লক ও জিও ব্যাগ ধসে গেছে নদী গর্ভে। ভাঙা বাঁধের পাশে সাত্তার নামের একজনের বাড়ি। যেকোনো সময় তার বাড়িটি নদীতে বিলিন হয়ে যেতে পারে এ আশঙ্কায় তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যেত্র চলে গেছেন।বাঁধের পাশেই বাড়ি মুসলিমা খাতুনের। কথা হলে এ নারী বলেন, সোমবার সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ শব্দ শুনে ছুটে আসি। এসে দেখি বাঁধ ভেঙে গেছে। একজন ভয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে। আমরাও ভয়ে আছি।ভাঙন স্থানে বালু ভর্তি বস্তা নৌকায় করে নিয়ে কয়েকজনকে ফেলতে দেখা গেল। নৌকার মাঝি আকছেদ আলী জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যস্ত প্রায় এক হাজার ৭০০ বস্তা বালু ফেলা হয়েছে। কত বস্তা ফেলা হবে তা তার জানা নেই। প্রতি বস্তায় ২০ কেজি করে বালু রয়েছে। তবে ভাঙন এলাকায় কয়েক মিনিট দাড়িয়ে দেখা গেল বালুর বস্তা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে তা নদের গভীরে চলে যাচ্ছে। নদীর পাড়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, নদীর পানি কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁধের ভাঙন আরও তীব্র হতে পারে। এতে সেতু হুমকির মুখে পড়তে পারে। স্থানীয় সরকারি প্রকৌশল অধিদফতরের কর্মকর্তারা ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এলজিইডির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রাতে ও সকালে দুদফায় ঘটনাস্থল ঘুরে দেখা হয়েছে। গড়াই নদীর পানির তীব্র স্রােতে এমনটি হয়েছে। সেতু থেকে প্রায় ১৭৫ মিটার দূরে এ ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙনে সেতুর ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। ভাঙন ঠেকাতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এখনো ঠিকাদারকে কোনো বিল দেয়া হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আকতার লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, ৩০ মিটার ধসে গেছে। সেখানে বালু ভর্তি বস্তা ফেলে ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ভাঙনে সেতুর কোনো ক্ষতি হবে না।আল-মামুন সাগর/এফএ/পিআর