সাহিত্য

বিষাদের পেন্ডুলাম এবং অন্যান্য

বিষাদের পেন্ডুলাম

বিপদে বিষাদে পেন্ডুলামে নিষ্পেষিত সময় পূর্ণচন্দ্রের সুরধ্বনি স্তব্ধ মেঘাচ্ছন্ন আকাশে, হতবিহ্বল হয়ে যায় নির্মাণাধীন জীবন চিত্র আড়চোখে তাকিয়ে শোধ তোলে প্রকৌশলী।

শুভাকাঙ্ক্ষীদের ভিড়ে বিশ্বাস অন্ধকারেঅমাবস্যার মধ্যরাতে নিখোঁজ প্রতিশ্রুতি,আর অসহায়ত্ব বন্দী হয় হতাশার জালেএকাকিত্ব বরণ করে একলা পথে হাঁটি।

****

নৈঃশব্দ্যে নিঃস্ব জীবন

নৈঃশব্দ্যে নিঃস্ব জীবন মুখ থুবড়ে পড়েএকাকিত্বের যন্ত্রণা নিঃসৃত হয় মস্তিষ্কে,চাঁদের আলোও তিক্ততা ছড়ায় সর্বাঙ্গেনিস্তব্ধতার দংশনে ধীরে ধীরে বিপর্যস্ত।

আমার কবিতাগুলো আজ প্রতিকূলচারী বরফ আস্তরণে জমাটবদ্ধ কলমের কালি,শব্দগুলো বারংবার হোঁচট খায় সভ্যতায়আদর্শের পঙক্তিমালা কলঙ্কিত হয় সস্তায়।

মানবিক হও সত্যবাদী মোহাম্মদের মতোআস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপ করো মনে পাপ যতো।

****

ধূলিঝড়

শূন্য ক্যানভাস বারবার হোঁচট খায় শূন্যতায়পরিকল্পিত কষ্টগুলো ক্ষত-বিক্ষত করে হৃদয়,আমিহীন তুমিটা বড্ড অদ্ভুত উচ্ছ্বাসে অচেনাআকাশ যে রঙের হোক দোষ খোঁজে বাতাসে।

রক্তক্ষরণ দেখে হেসে লুটিয়ে পড়ছে অভিনয়অবহেলার আচ্ছাদনে মিশে যায় স্নিগ্ধ শিশির,কিছু স্বপ্ন অঙ্কুরে বিনষ্ট হয়, কিছু থাকে কোমায়আমি তাকিয়ে থাকি ধূলিঝড় কুণ্ডুলির দিকে।

****

অন্তর্দৃষ্টির অন্তর্দাহ

হয়তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া;কিন্তু আমি সমুদ্রে আমি গভীরতা খুঁজি,হাসির রেখায় আঁকা করুণ চিত্রকল্প দেখিঅণুবীক্ষণ যন্ত্রে রক্তের দাগ দেখতে পাই।

ভুলে নতুন স্বপ্নগুলো যন্ত্রণায় ছটফট করেদূরে দাঁড়িয়ে হতাশা সহাস্যে হাততালি দেয়,আমি নেতিয়ে পড়ি; মুহূর্তেই ক্লান্ত হয়ে যাইহয়তো স্বাভাবিকতা মেনে নিলে-অন্তর্দৃষ্টির অন্তর্দাহ শীতল অনুভব করতো।

মনে হচ্ছে দুর্বল চিত্তের মানুষগুলো এমন হয়এ ক্ষেত্রে কোনো কারণেই উদার নই আমি;ক্ষুদ্র মানসিকতার ধারক-বাহক হোক অস্তিত্বতবু এক চিলতে মেঘের আড়ালে না হারায়।

এসইউ