সম্প্রতি জাতীয়করণ করা কলেজের তালিকায় রয়েছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ। কিন্তু জাতীয়করণ হলেও কলেজটিতে বিরাজ করছে নানা সমস্যা। এ থেকে উত্তরণের দাবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৮৬ সালে গোয়ালন্দ উপজেলা কার্যালয়ের কাছে প্রতিষ্ঠিত হয় কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ। প্রতিষ্ঠার কয়েক বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থী ও অবিভাবকদের মনে আস্থা করে নেয় উপজেলার সর্বোচ্চ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এরপর থেকে ক্রমাগত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লে সমান্তরালে বাড়েনি অবকাঠামো সুবিধা ও শিক্ষকের সংখ্যা। জানা যায়, বর্তমানে কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি শাখার ১৬০০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে রয়েছেন ৪৪ জন শিক্ষক ও ১২ জন কর্মচারী। এছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে একটি দুইতলা, একটি তিনতলা ও একটি চারতলা ভবন মিলে রয়েছে তিনটি একাডেমিক ভবন। এসব ভবনেই করা হয়েছে প্রশাসনিক কার্যক্রম, লাইবেরি, কম্পিউটার ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম ও বাথরুমের ব্যবস্থা। কলেজে নেই আইসিটি ভবন, বিজ্ঞান ভবন, শিক্ষক মিলনায়তন, ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস। নেই কোনো সীমানা প্রাচীরও।একাদশ শ্রেণির ছাত্র শাহেদ আহম্মেদ বলেন, কলেজ সরকারি হওয়ায় আমরা খুব খুশি। এজন্য এমপি সাহেবসহ সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা এখন বলতে পারবো এখন আমরা সরকারি কলেজের ছাত্র। তবে তিনি শ্রেণিকক্ষ ও শিক্ষক সংকট নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।কলেজটি সরকারিকরণ হওয়ায় খুব খুশি বিজ্ঞান শাখার ছাত্রী জেনিয়া আক্তার। তিনি জানান, কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয়। স্যারেরা সব সময় তদারকি করেন। তবে ছাত্রীনিবাস সমস্যার সমাধান জরুরি বলে মনে করেন তিনি।তার মতো খুশি কলেজের সব শিক্ষার্থীই। তবে তাদের মত, সরকারি কলেজের মর্যাদা রক্ষায় এখন কলেজে বিজ্ঞান ভবন, শিক্ষক মিলনায়তন, সীমানা প্রাচীরসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ও কলেজের সাবেক ছাত্র মো. লিয়াকত হুসাইন জানান, এখন থেকে কলেজে সব সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাবে। কলেজ সরকারি হওয়াতে শুধু কলেজের উন্নতি হয়নি হয়েছে পুরো গোয়ালন্দবাসীর।কলেজের সাচিবিক বিদ্যার প্রভাষক এনায়েত হোসেন জাকির জানান, শিক্ষানুরাগী রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং অধ্যক্ষ স্যারের চেষ্টায় কলেজটি জাতীয়করণ হয়েছে। এই কলেজের মান রক্ষার্থে যা যা করণীয় আমরা তা করবো।কামরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীর চেষ্টায় কলেজটি জাতীয়করণ হয়েছে। এজন্য আমরা কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাদের এমপি, শিক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমস্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই।তিনি জানান, কলেজে পাঠদান নিয়মিত নিশ্চিত করা, আইসিটি ব্যবহারিক ক্লাসে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত ক্লাস পরিদর্শন করা হয়। শিক্ষার মান উন্নয়নে সব ধরনের চেষ্টা আমাদের আছে এবং থাকবে।তবে তিনি স্বীকার করেন, কলেজটি জাতীয়করণ হলেও সংকট রয়েছে প্রশাসন, আইসিটি, বিজ্ঞান ভবন, শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাসের। এছাড়া ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নেই। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর।তবে বর্তমানে জঙ্গি ইস্যুতে আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের সচেতন করতে প্রতিদিন হ্যান্ড মাইক দিয়ে ক্যাম্পাস প্রচারণা চালাই এবং কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকরা জঙ্গিবিরোধী মানববন্ধন পালন করেছে।অধ্যক্ষ আরো বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও যুগোপযোগী শিক্ষা দিতে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে হবে। এজন্য কলেজের সমস্যা সমাধানে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।এসএস/আরআইপি