দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় শ্রমের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নারীরা

শ্রমের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মরত গাইবান্ধার প্রমীলা শ্রমিকরা। অতিরিক্ত পরিশ্রম করেও নানা বঞ্চনার শিকার হয়ে বহুকষ্টে দিনাতিপাত করছেন তারা। জানা যায়, মজুরি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায় না নারী প্রমীলা শ্রমিকরা। এ অবস্থায় পুরুষদের চেয়ে দিন হাজিরা ১৫ থেকে ২০ টাকা কম পায় তারা। ফলে দরিদ্র থেকে আরো দরিদ্র হচ্ছে প্রমীলা শ্রমিকরা।  জেলা নারী সংগঠনগুলোর নেত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রমীলা শ্রমিক কর্মরত রয়েছে। এর মধ্যে গৃহপরিচারিকা এবং কৃষি সেক্টরসহ মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি। পাশাপাশি চালকল এবং নির্মাণ কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকের সংখ্যাও কম নয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলায় রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গে ইট ভাঙার কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকের সংখ্যা প্রায় দুই হাজার ৭০০। নদীবেষ্টিত এই জেলায় অব্যাহত নদী ভাঙনে সর্বহারা ছিন্নমূল মানুষের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া জেলায় কোনো ধরনের  শিল্প-কারখানা গড়ে না ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি। ফলে ইট ভাঙায় নারী শ্রমিকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।   বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের জেলা সভাপতি আমাতুরনুর ছড়া জানান, ইটভাটায় হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও প্রমীলা শ্রমিকরা পুরুষদের সমান পারিশ্রমিক পায় না। তাদের হয়ে কথা বলার কোনো সংগঠনও নেই। কাজেই মজুরি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পায় না তারা। এ অবস্থায় পুরুষদের চেয়ে দিন হাজিরা ১৫ থেকে ২০ টাকা কম পায়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধার বাঁশজাত কুটির শিল্প এখন বিলুপ্তপ্রায়। শুধু সুন্দরগঞ্জ উপজেলাতে এই শিল্পকর্মে নিয়োজিত প্রায় সাড়ে তিন হাজার শ্রমিক। এর মধ্যে অন্তত ৬০ ভাগই নারী শ্রমিক। মজুরি বৈষম্যে তারা চরম দুর্ভোগের শিকার। জীবন জীবিকার তাগিদে তাদের এই পৈত্রিক পেশা ছাড়তেও পারছে না, আবার এই পেশা আঁকড়ে ধরে খেয়ে- পরে বেঁচে থাকাও কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।   নারী মুক্তি কেন্দ্রের জেলা  সভাপতি অধ্যাপক রোকেয়া খাতুন জানান, পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকদের দিয়ে বেশি কাজ করানো হলেও কম মজুরি দেয়ার সুযোগ রয়েছে বলেই নির্মাণ সেক্টরে নারী শ্রমিকদের চাহিদা অপেক্ষাকৃত বেশি। তাই নির্মাণ নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। এছাড়া নিজ মজুরি থেকে রাজমিস্ত্রিকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে তারা কাজের সুযোগ হারান। ফলে অতিরিক্ত খাটুনি খেটেও নির্মাণ নারী শ্রমিকরা তাদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারছেন না। মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রিকতু প্রসাদ জানান, কেবলমাত্র সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী শ্রমিকরা এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন। তবে নারী সংগঠনগুলোকে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এ কথা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।অমিত দাশ/এএম/পিআর