দেশজুড়ে

কুড়িগ্রামে সরকারি বই জব্দ : তদন্ত কমটি গঠন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাধ্যমিক শাখার চলতি বছরের বিনামূল্যে বিতরণের জন্য সরবরাহকৃত সহস্রাধিক সরকারি বই বিক্রি করেছেন এক প্রধান শিক্ষক। বইগুলো ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় ভ্যানসহ এর ক্রেতাকে আটক করে চেয়ারম্যানের জিম্মায় রেখে দিয়েছেন এলাকাবাসী। এদিকে বই আটকে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।এলাকাবাসী জানায়, সোমবার রাতে নাগেশ্বরী উপজেলার আলেপের তেপতি নামক স্থানে ভ্যানে করে বই নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন বইসহ ভ্যানটি আটক করে। আটককৃত বইগুলো সন্তোষপুর ইউনিয়নের সন্তোষপুর আদর্শ দ্বি-মূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্বাছ আলী কেজি দরে বিক্রি করেছেন। পরে লোকজন বইগুলো আটক করে দেখতে পায় অধিকাংশ বই চলতি বছরের (শিক্ষা বছর ২০১৬) ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের। স্থানীয় আলতাব হোসেন সরকার ও আনোয়ার হোসেন রঞ্জু বলেন, বইয়ের বিষয়ে হেড মাস্টারকে ফোনে জানালে তিনি বলেন স্কুলের কাজে কিছু টাকা লাগবে এজন্য বিক্রি করা হয়েছে। পরে বিষয়টি সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু জানলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালে তারা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নিখিল চন্দ্র বর্মণকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে জনগণের জব্দ করা বইগুলো তালিকা করে চেয়াম্যানের জিম্মায় রেখে আসেন।বই বিক্রির বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আব্বাছ আলী জানান, বিদ্যালয়ের কমিটি ও সকল শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে কিছু খাতা বিক্রি করা হয়েছে। এর ভেতর কী করে ২০১৬ সালের বই আসলো এটা আমার জানা নেই।এ বিষয়ে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী লাকু বলেন, আটককৃত বইগুলো আমার জিম্মায় রয়েছে। তদন্ত চলছে।  উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নিখিল চন্দ্র বর্মণ জানান, সরেজমিনে এসে ৬ষ্ঠ শ্রেণির ৬শ ৬৮টি, ৭ম শ্রেণির ১শ ১৮টি, ৮ম শ্রেণির ১শ ৬৭টি এবং নবম-দশম শ্রেণির বিভিন্ন বিষয়ের ২৫টি সহ মোট ৯শ ৭৯টি বই পাওয়া গেছে। যার অধিকাংশ চলতি বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালের। এগুলো চেয়ারম্যানের কাছে রাখা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেয়া হবে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহুরুল হক বলেন, মঙ্গলবার সরেজমিন গিয়ে অভিভাবকসহ এলাকবাসীর সঙ্গে কথা বলে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে তদন্ত হয়ে গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ বলেন, অভিভাবকসহ এলাকাবাসী আইনানুগ সমাধান চাচ্ছে। সেভাবে কমিটি করে দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।নাজমুল হোসেন/এফএ/এবিএস