ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস আজ। ফুলবাড়ী গণ-আন্দোলনের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও আজো বাস্তবায়ন হয়নি ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে সম্পাদিত ৬ দফা চুক্তি।২০০৬ সালে আজকের এই দিনে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে ফুলবাড়ী কয়লা খনি বাস্তবায়নের প্রতিবাদে এশিয়া এনার্জি নামক একটি বহুজাতিক কোম্পানির ফুলবাড়ী অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করতে গেলে মিছিলের উপর টিয়ারশেল ও গুলিবর্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এতে তরিকুল ইসলাম, আমিন ও সালেকিন নামে ৩ যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। একই ঘটনায় আহত হন আরো ৩ শতাধিক মিছিলকারী। এদের মধ্যে বাবলু রায় নামে একজন চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। এখনও সেই গুলির ক্ষত বহন করছেন অনেকে। পরে ফুলবাড়ীবাসীর গণ আন্দোলনের মুখে তৎকালীন সরকার ফুলবাড়ীবাসীর সঙ্গে ৬দফা একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন। যা ফুলবাড়ী ৬ দফা চুক্তি বলে পরিচিত। এরপর থেকে এই দিনটিকে ফুলবাড়ী দিবস হিসেবে পালন করে আসছে ফুলবাড়ীবাসী। সেই সময়ের সম্পাদিত ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আজো পৃথকভাবে পৃথক কর্মসূচিতে আন্দোলন করে আসছে ফুলবাড়ীর অরাজনৈতিক, সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠন ও তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। ২০০৬ সালের ২৬শে আগস্টের গণ-আন্দোলনের নেতা ও সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের আহ্বায়ক বর্তমান পৌরমেয়র মুরতুজা সরকার মানিক বলেন, ২০০৬ সালের ২৬শে আগস্ট ফুলবাড়ীসহ পার্শ্ববর্তী বিরামপুর, নবাবগঞ্জ ও পার্বতীপুর উপজেলার অধিকাংশ বাসিন্দা শান্তিপূর্ণভাবে মিছিল করছিল। কিন্তু বিনা উস্কানিতে মিছিলের উপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালায়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ২৬ শে আগস্টের পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনা ফুলবাড়ীতে এসে ফুলবাড়ীর বীর জনতাকে লাল স্যালুট দিয়ে ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি ক্ষমতায় যাওয়ার পর সেই চুক্তি আজও বাস্তবায়ন করেননি। এ জন্য তিনি ৬দফা চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান এবং ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন না হলে আবারো একটি গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে ৬ দফা চুক্তি বাস্তবায়ন করতে সরকারকে বাধ্য করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেন। এদিকে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, ফুলবাড়ীতে ঘটে যাওয়া গণ-আন্দোলনের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও কেউ খবর রাখেনি শহীদ পরিবারগুলোর। এখনও হত্যার বিচারের আশায় পথ চেয়ে আছে শহীদদের স্বজনেরা। ২৬শে আগস্টের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে নিহত রাজশাহী কলেজের অনার্স ১ম বর্ষের ছাত্র তরিকুল ইসলামের মা মোছা. তহমিনা বেগম আজও ছেলের ছবি বুকে নিয়ে কাঁদছেন। বৃহস্পতিবার পৌরশহরের চাঁদপাড়া গ্রামে তরিকুলের বাড়িতে গেলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তার মা। তিনি বলেন, ছেলে হত্যার বিচার আমি কার কাছে চাইবো। কার জন্য আমার ছেলেকে হারাতে হয়েছে। আমার ছেলে হারিয়ে গেলেও কেউ আমার বা আমাদের খোঁজ রাখেনি। আমার ছেলের নাম নিয়ে মিছিল হয় মিটিং হয়। কিন্তু সেই মিছিল মিটিংয়ে আমাদেরকে ডাকা হয়না।একই অভিযোগ করেন বারকোনা গ্রামের আমিন এর বাবা আব্দুল হামিদ ও সালেকিন এর মা সালমা বেগম। শহীদদের স্বজনেরা জানান, আমাদের ছেলেরা বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছে আর ফিরে আসে নাই। তাদেরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে সেই বিচারও তারা পাননি। এমনকি যারা আজকে ২৬শে আগস্টকে নিয়ে আন্দোলন করছে তারাও কোনো খোঁজ করেনি।এফএ/এমএস