দেশজুড়ে

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা সালন্দর কামরুল হুদা চৌধুরী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহ-গ্রন্থাগারিক শিক্ষিকা শরিফা খাতুন এক ছাত্রীকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত করায় তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।শনিবার বেলা ১২টার দিকে ওই শিক্ষিকার অপসারণের জন্য স্কুলের সকল শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে মাঠে অবস্থান নেয়।বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রন্থাগারিক শিক্ষিকা শরীফা সম্প্রতি স্কুলের এক ছাত্রীকে প্রলোভন দেখিয়ে রংপুর নিয়ে যায়। পরে একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে যায় ওই ছাত্রীকে। এসময় কাজের কথা বলে ওই শিক্ষিকা ছাত্রীকে রেখে বের হয়ে যায়। হঠাৎ হোটেলের ভেতরে দুইজন ঢুকে ছাত্রীর সঙ্গে অশ্লালীন কার্যকলাপের চেষ্টা করে। ছাত্রীর চিকিৎকারে এসময় আশেপাশের মানুষ ছুটে আসলে ওই দুইজন পালিয়ে যায়। পরে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে বাসায় নিয়ে আসা হয়।পরিবারের পক্ষ থেকে স্কুলে গ্রন্থাগারিক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক বরাবরে লিখিত অভিযোগ করা হয়। লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্কুল কমিটি। তদন্ত কমিটির কাছে অপরাধ স্বীকার করে শিক্ষিকা ক্ষমা প্রার্থনা করেন। পরে ওই শিক্ষিকার অপসারণের দাবিতে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে লিখিত অভিযোগ করা হয়। কিন্তু বোর্ডের চেয়ারম্যান স্কুলে গত বুধবার (২৪ শে আগস্ট) এসে ওই শিক্ষিকার বিষয়ে সদয় হওয়ার জন্য সকলকে বলেন। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে স্কুলের সকল শিক্ষার্থীরা। ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে।কিন্তু শনিবার ওই লাইব্রেরিয়ান শিক্ষিকা স্কুলে আসলে শিক্ষার্থীরা তাকে দেখে উত্তেজিত হয়ে আবার ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ শুরু করে।পরে জেলা শিক্ষা অফিসার শাহিন আক্তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে বোর্ডের চেয়ারম্যান ঘটনাটি পুনরায় তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে গেলেও তাদের দাবি ওই লাইব্রেরিয়ান শিক্ষিকা স্কুলে আসলে তারা আবারো ক্লাস বর্জন করবে এবং দ্রুত ওই শিক্ষিকার অপসারণের দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।রবিউল এহসান রিপন/এআরএ/এবিএস