দেশজুড়ে

বেনাপোলে বিদ্যুৎ যায় না মাঝে মাঝে আসে

দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল ও শার্শায় বিদ্যুৎ সঙ্কট চরমে পৌঁছেছে। বিদ্যুতের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে আমদানি-রফতানি প্রক্রিয়াসহ ব্যবসা বাণিজ্য। বন্দর ও কাস্টমসের কর্মকর্তাদের দাবি, দেশের প্রধান স্থলবন্দর হলেও বেনাপোলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অন্তত ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এছাড়া যতক্ষণ বিদ্যুৎ থাকে তা বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই অফিসের কোনো কাজে আসে না। ওই এলাকাগুলোতে প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত প্রায় ১০-১১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। কাস্টমস এবং বন্দরের প্রয়োজনীয় প্রায় সব কাজই সারতে হচ্ছে জেনারেটর চালিয়ে। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও সমাধানের কোনো চেষ্টাই করছে না ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানি করা হয় তার শতকরা ৯০ ভাগই আসে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। আমদানি-রফতানি মিলে বছরে এখানে পণ্য হ্যান্ডলিং হয় প্রায় প্রায় ৪০ লাখ মেট্রিক টন। এ থেকে সরকার বছরে রাজস্ব পাচ্ছে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকা। অথচ এই স্থলবন্দর চলে পল্লী বিদ্যুৎ দিয়ে।বাংলাদেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল হলেও বন্দরটি এখনো অনুন্নত। বর্তমান সরকার উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিদ্যুতায়ন করলেও আলোর মুখ দেখছে না গ্রামের মানুষ। বিদ্যুতের অভাবে জেনারেটর নির্ভর হয়ে পড়েছে বেনাপোল বাজার ও বন্দর। এছাড়াও স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনায় ব্যাঘাত ঘটছে। এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীদেরও কোনো উচ্চ বাক্য নেই। সবার মধ্যে যেন বিষয়টি সয়ে গেছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের অবস্থা এখানে এতটাই নাজুক যে বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা এখন ব্যঙ্গ করে বলেন ‘বেনাপোলে বিদ্যুৎ যায় না মাঝে মাঝে আসে’। যশোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর হিসাব অনুয়ায়ী বেনাপোল, শার্শা ও ঝিকরগাছার কিছু এলাকা নিয়ে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৬৬ হাজার। এ এলাকায় বিদ্যুতের দৈনন্দিন চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট। কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১০ মেগাওয়াট। প্রতিদিনই এক এলাকায় লোডশেডিং করে অন্য এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। পিক আওয়ারে লোডশেডিং বেশি হয়ে থাকে। এছাড়াও জাতীয় গ্রিডে সমস্যা দেখা দিলে, লাইন মেরামতসহ ঝড় বৃষ্টি হলেই বিদ্যুৎ পাওয়া যায় না। আর এসব কারণে দিনে ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা  বিদ্যুৎ দিতে পারছে না পল্লী বিদ্যুৎ। বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারি কমিশনার মারুফুর রহমান জানান, বিদ্যুৎ না থাকার কারণে তাদের দফতরের প্রায় সব কাজ চলছে এখন জেনারেটর দিয়ে। অফিস সময়ের বেশির ভাগই বিদ্যুৎ থাকে না। জেনারেটর দিয়ে কাজকর্ম চালানোও কঠিন হয়ে গেছে। বিশেষ করে অনলাইন প্রিন্টার চালানো যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে মূল্যবান অনেক প্রিন্টার বিকল হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে সার্ভার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্য মুছে গেছে। এতে স্বাভাবিক কাজকর্ম মারাত্মক ভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। একই কথা বলেন বেনাপোল বন্দরের উপ পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল। তিনি বলেন, এত বড় একটি বন্দর অথচ ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। বেনাপোল বন্দরকে আরো গতিশীল করতে বিদ্যুৎ সমস্যার আশু সমাধানের দাবি জানান তিনি।এ প্রসঙ্গে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান সজন বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান চেয়ে আসছেন। কিন্তুু কোনো সুফল পাচ্ছে না। বিদ্যুৎ না থাকায় দিনে রাতে সমানভাবে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। শার্শা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মনোয়ারুল ইসলাম জানান, পিডিবির কাছ থেকে ঠিকমত বিদ্যুৎ সাপ্লাই না পাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। লোডশেডিং এখান থেকে করা হয় না। বেনাপোলে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের থাকলেও তা সম্ভব হচ্ছে না। তারপরও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে বেনাপোলকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। এছাড়াও বেনাপোলের কাগমারি এলাকায় একটি বিদ্যুতের পৃথক সাব স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। অচিরেই সেটা চালু করা হবে বলে তিনি জানান।এফএ/এবিএস