দেশজুড়ে

মানিকগঞ্জ-২ আসনের এমপি হতে চেয়েছিলেন মীর কাসেম

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর কাসেম আলী মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য হতে চেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির মানিকগঞ্জের সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপক ঘোষ।তিনি জানান, ২০০১ সালের সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের মনোনয়ন পেতে সে সময় বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালিয়েছেন মীর কাসেম। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আর্থিক অনুদানও দিয়েছিলেন। মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চালা গ্রামে তার অর্থায়নে একটি বড় মসজিদ হয়েছে।এদিকে, মানিকগঞ্জ জেলা জামায়াতের রাজনীতি ছিল তার নিয়ন্ত্রণে। জেলা শাখার সকল নেতা-কর্মীই ছিলেন তার অনুসারী। তাকে কেন্দ্র করেই সে সময় জেলায় জামায়াত চাঙ্গা হয়ে উঠেছিল। বিএনপির সঙ্গে জোটবদ্ধ আন্দোলন অথবা দলের নিজস্ব কর্মসূচিতে মানিকগঞ্জে জামায়াতকে ব্যাপক শো-ডাউন করতে দেখা যেত।তবে মীর কাসেম আলীর বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর থেকেই মানিকগঞ্জে রাতারাতি জামায়াত ইসলামের সাইনবোর্ড সরিয়ে ভাড়া অফিস বন্ধ করে দেয়া হয়। কিছুদিন শহরের তিতুমীর একাডেমিতে গোপনে দলীয় কাযক্রম চালালেও কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনের ফাঁসি কার্যকর হওয়ার পর জেলার নেতারা আত্মগোপনে চলে যান।উল্লেখ্য, মীর কাসেম আলীর জন্মস্থান মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার সুতালরি গ্রামে। তার বাবার নাম তৈয়ব আলী। তিনি গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারী ছিলেন। তবে পদ্মার ভাঙনে গ্রামটি বিলীন হওয়ার পর একই উপজেলার চালা গ্রামে বাড়ি করেন তারা। চার ভাইয়ের মধ্যে মীর কাসেম আলী দ্বিতীয়। ডাক নাম পিয়ারু। সবাই তাকে মিন্টু নামেই চিনেন।বাবার চাকরির সুবাদে মীর কাসেম চট্টগ্রামে লেখাপড়া করেন। সে সময় তিনি জামায়াতের অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের দায়িত্ব পান। ১৯৭১ এ আলবদর বাহিনীর প্রধান ছিলেন। যুদ্ধ চলাকালীন চট্টগ্রামে তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী নানা অভিযোগ থাকলেও নিজ এলাকায় এ ধরনের অভিযোগের কথা শোনা যায় না।বি.এম খোরশেদ/এসএস/এমএস