কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের হিড়িক পড়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় গবাদি পশু মোটাতাজাকরণ ও সৌন্দর্য বর্ধন ঘটানোর কাজে ব্যস্ত সবাই। সস্তা দামে গরু কিনে এনে এবং দেশীয় গরু কিনে স্বল্প দিনের মধ্যেই মোটাতাজাকরণের মাধ্যমে বেশি টাকা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশে লোকজন মরিয়া হয়ে পড়েছে। এ জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে ভিটামিন টেবলেট, পাম বড়ি এবং ভিটামিন ইনজেকশনজানা যায়, জেলার ১৬ উপজেলায় ছোট-বড় দুই হাজার ৬১৭টি এবং ব্যক্তি ও পারিবারিক পর্যায়ে ৮০ হাজার ৭৫৯টি খামারে তিন লাখ ৩১ হাজার ৫৩৫টি বিভিন্ন প্রজাতির গরু মোটাতাজা ও সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ চলছে। এর মধ্যে অধিকাংশ খামারি অধিক মুনাফার লোভে কম সময়ে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর প্যারাকটিন, পাম্প, স্টেরয়েড ও ডেক্সামিথাসনের মতো ভয়ঙ্কর ক্ষতিকারক ঔষধ ও ইনজেকশন প্রয়োগ প্রক্রিয়া বেছে নিয়েছেন। এ বছর জেলার কোরবানির ২৫২ পশুরহাটে ৭৭টি মেডিকেল টিম কাজ করবে বলে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। জানা যায়, জেলার তিন লক্ষাধিক গরু মোটাতাজাকরণের পাশাপাশি ভারত সীমান্ত কিংবা অন্য জেলা থেকে গরুর সমাহার ঘটবে হাটগুলোতে। এছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে বাজারে স্থান পাবে প্রায় ৪৫ হাজার খাসি, ছাগল, ভেড়া। গরু মোটাতাজাকরণের বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবদুল মান্নান জানান, আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করার বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ও উপজেলাসহ মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারীরা পরামর্শসহ সবধরণের সহযোগিতা দিচ্ছেন। তবে উপজেলা পর্যায়ে গড়ে মাত্র ২-৩ জন ভেটেনারি ফিল্ড অ্যাসিস্টেন্ট (ভিএফএ) দিয়ে খামার তদারকিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, কিছু অসাধু লোক অধিক লাভের আশায় নিষিদ্ধ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ওষুধ ও ইনজেকশন প্রয়োগের মাধ্যমে গরু মোটাতাজা করণের প্রক্রিয়া অবলম্বন করেছেন। এসব বিষয়ে ক্রেতারা সচেতন হলে খামারিরা নিষিদ্ধ উপায়ে গরু মোটাতাজাকরণ থেকে বিরত থাকবে বলেও জানান তিনি। মো. কামাল উদ্দিন/এএম/এমএস