দেশজুড়ে

কক্সবাজারের ৪৪ পশুর হাট প্রস্তুত

কক্সবাজারে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪৪ পশুর হাট। এরই মধ্যে বেপারিরা নিয়ে আসতে শুরু করেছেন গবাদিপশু।শনিবার জেলার বেশ কয়েকটি গরুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, হাটের প্রায় সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ক্রেতাদের সেবা দিতে কক্সবাজার জেলা সদরসহ আট উপজেলায় বসানো হয়েছে এ ৪৪টি পশুর হাট। এদিকে ক্রেতা-বিক্রেতা সবাইকে সেবা দিতে প্রস্তুতি নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার বিশেষ টিম। বসানো হচ্ছে জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিনসহ নিরাপত্তা বলয়।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারে বসানো ৪৪টি পশুর হাটে মধ্যে স্থায়ী ২১টি, অস্থায়ী ২৩টি। এর মধ্যে সদরে পাঁচটি, চকরিয়ায় ১০টি, পেকুয়ায় দুইটি, কুতুবদিয়ায় দুইটি, মহেশখালীতে ছয়টি, উখিয়ায় ছয়টি, টেকনাফে সাতটি পশুর হাট রয়েছে। সপ্তাহের নির্ধারিত দিনে বসছে এসব পশুর হাট।ইতোমধ্যে হাটে এসব পশুই আনা হচ্ছে। এসব পশুর সঙ্গে পার্শ্ববতী দেশ থেকে আমদানি করা পশু না উঠলে স্থানীয় পশুর দাম হাঁকানো হয় আকাশ ছোঁয়া। তাই এখানকার অনেকের দৃষ্টি থাকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে আসা আমদানি পশুর দিকে। কিন্তু টানা দুয়েক সপ্তাহ ধরে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত হয়ে মিয়ানমার থেকে এবার গবাদি পশু আমদানি গত বছরের তুলনায় কমেছে। টেকনাফ শুল্ক স্টেশনের কাস্টমস কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান জানান, আগস্ট মাসে শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত হয়ে দুই হাজার ৫৪৭টি গবাদি পশু আমদানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু এক হাজার ১৬০টি, মহিষ এক হাজার ৩৭৬টি, ছাগল ১১টি।  শাহপরীর দ্বীপ জেটি ও হাট-বাজারের ইজারাদার মৌলভী নুরুল হক সাংবাদিকদের জানান, মিয়ানমার থেকে ট্রলারযোগে এসব গবাদি পশু আমদানি করা হয়। আগস্ট মাসে শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে যে পরিমাণ গবাদি পশু আমদানি হয়েছে তা ২০১৫ সালের তুলনায় অনেক কম।কাস্টমস সূত্র জানায়, ২০১৫ সালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর হয়ে মিয়ানমার থেকে ২৭ হাজার ৭৭৩টি পশু আমদানি হয়েছিল। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ঈদের আগে আরো ১৫ হাজার পশু আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে এরই মধ্যে বিজিবির উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকও করেছেন।শাহপরীর দ্বীপ করিডোর ব্যবসায়ী সমিতির আবুল কাশেম জানান, ঈদের আগে আরো ১০ হাজার পশু আমদানির লক্ষ্য রয়েছে। মিয়ানমার থেকে আসা পশু গড়ে প্রতি মণ ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা দামে বিক্রি হয়। করিডোর দিয়ে পশু আমদানিকারক মৌলভী বোরহান উদ্দিন জানান, গত এক মাসে ১২’শয়ের বেশি গবাদি পশু আমদানি করেছেন তিনি। আবহাওয়া ভালো থাকলে আগামী এক সপ্তায় আরো দুই হাজারের বেশি গবাদি পশু আমদানি করবেন।লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ জানান, গবাদি পশু আমদানির ক্ষেত্রে বিজিবি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করছে। আশা করা হচ্ছে আমদানি বাড়বে।কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফেরদৌস আলী চৌধুরী জানান, পশুর হাটসহ বিভিন্ন স্থানে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পশুর হাট ও মার্কেটে বসানো হচ্ছে জাল টাকা শনাক্তে মেশিন। এসব মেশিন বিভিন্ন থানায়, পুলিশ ফাঁড়িতে একটা করে থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি র্যা ব, বিজিবির টহল টিমও মাঠে থাকবে।  সায়ীদ আলমগীর/এএম/আরআইপি