দেশজুড়ে

হুইপ ইকবালুর রহিমের বাবার ইন্তেকাল

সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিমের বাবা ও দিনাজপুর জেলার রাজনৈতিক অভিভাবক, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধকালীন মুজিব নগর সরকারের পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনের চেয়ারম্যান ও সংবিধান প্রণেতা সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাড. এম. আব্দুর রহিম ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইল্লাহি রাজিউন)।মরহুমের ছেলে হুইপ ইকবালুর রহিম জানান, বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে এম. আব্দুর রহিম ঢাকার বারডেম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন। এর আগে ২ আগস্ট এম. আব্দুর রহিম দিনাজপুরে তার বাসভবনে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দিনাজপুরে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ৯ আগস্ট ঢাকায় বারডেমে নেয়া হয়।এম. আব্দুর রহিম ১৯২৭ সালের ২১ নভেম্বর দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকপুর ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বৃহত্তর দিনাজপুর অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন তিনি। পাক বাহিনীরা দিনাজপুর আক্রমণ করলে এম. আব্দুর রহিমকে আহ্বায়ক করে দিনাজপুরে মুক্তিযুদ্ধ সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়। সেসময় মানবিক মূল্যবোধ আর দেশাত্মবোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে তিনি ভারতের পতিরাম, রায়গঞ্জ, কালিয়াগঞ্জ, বালুরঘাট, গঙ্গারামপুরসহ বিভিন্ন এলাকার শরনার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।৭১-এর ১৭ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকার গঠন হলে গোটা দেশকে যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ১১টি বেসামরিক জোনে ভাগ করা হয়। মুজিবনগর সরকার এম আব্দুর রহিমকে পশ্চিম জোনের জোনাল চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি ১৮ ডিসেম্বর বেলা ১১টায় দিনাজপুর গোর-এ শহীদ বড় ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম দিনাজপুরে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন। এসময় মিত্র বাহিনীর এ অঞ্চলের অধিনায়ক ব্রিগেডিয়ার ফরিদ ভাট্টি ও কর্ণেল সমশের সিং এর নেতৃত্বে তাকে গার্ড অব অনার দেয়া হয়। রাজনীতিক এম আব্দুর রহিম সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন তখন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে এম আব্দুর রহিম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৯১ সালে পুনরায় দিনাজপুর সদর আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর খবরে দিনাজপুরে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।  আজ বিকেল ৫টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে, ২য় জানাজা হবে আগামীকাল সকাল ১০টায় দিনাজপুর গড় এ শহীদ বড় ময়দানে ও ৩য় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে মরহুমের নিজ গ্রামের বাড়ি সদর উপজেলার জালালপুর ইদগাহ্ মাঠে। এরপর দুপুর ২টায় পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মার পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।এমদাদুল হক মিলন/এফএ/পিআর