লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার হাজিরহাট উপকূল ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক পদে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বেলা ১১ টার দিকে লক্ষ্মীপুরে স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকা কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রভাষক পদে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা হলেন, মো. আবদুল বাতেন (সমাজকর্ম), মো. মাহবুবের রহমান (ব্যবস্থাপনা), মো. হাবিবুল বাশার (হিসাববিজ্ঞান), ফাতেমা ফারভিন (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি), আবদুর রহমান (সমাজবিজ্ঞান) ও জসীম উদ্দিন (ইংরেজি)। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, হাজিরহাট উপকূল ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শূন্য পদে বাংলা ও অর্থনীতি এবং স্নাতক (পাস) শ্রেণির জন্য সৃষ্টপদে ইংরেজী, সমাজবিজ্ঞান, সমাজকর্ম, অর্থনীতি, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রভাষক পদের জন্য প্রত্যেকটিতে সর্বনিম্ম তিনজন বা ততোধিক প্রার্থী গত ১২ অক্টোবর ২০১৫ সালে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের মধ্যে থেকে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্বাচন করা হয়। প্রতিযোগীতামূলক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রভাষক পদে বিভিন্ন বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকারীদের নিয়োগ দানের জন্য নিয়োগ সংশ্লিষ্টরা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশ প্রদান করেন। কিন্তু কলেজ কৃর্তপক্ষ কেবলমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শূন্য পদে বাংলা ও অর্থনীতি বিষয়ে প্রভাষক পদে দুইজনকে নিয়োগ দেন। নিয়োগ সংশ্লিষ্টদের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে কোনো কারণ ছাড়াই কলেজ কৃর্তপক্ষ স্নাতক (পাস) শ্রেণির জন্য সৃষ্টপদে কাউকে নিয়োগ না দিয়ে চাকুরি প্রার্থীদের বঞ্চিত করেন। এ ঘটনায় মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে শুনানি শেষে গত ২৫ জুলাই হাইকোর্ট রুল জারি করেন। উক্ত কলেজে প্রভাষক পদে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ ওই ৬ জন প্রার্থীকে কেনো নিয়োগ দেয়া হবে না জানতে চেয়ে এ রুল জারি করা হয়।বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের বেঞ্চটি এ রুল জারি করেন। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতর মহাপরিচালক, লক্ষ্মীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার, অধ্যক্ষ হাজিরহাট উপকূল ডিগ্রি কলেজ, সভাপতি হাজিরহাট উপকূল কলেজ গভর্নিং বডি ও চেয়ারম্যান বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন অধিদফতরকে রুল জারির ২ সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আবেদনকারীদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট ইসমাইল হোসেন।কাজল কায়েস/এফএ/আরআইপি