হবিগঞ্জের বাহুবলে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় ১৪০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ বাদী হয়ে সোমবার এ মামলা দায়ের করে। এছাড়া উক্ত ঘটনায় ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।বাহুবল মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা মনির হোসেন জানান, ৪০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ১শ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বাকি দাঙ্গাবাজদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার নতুন বাজার এলাকায় অবস্থিত ওমেরা সিলিন্ডার্স কোম্পানির ৪ হাজার পিস রিজেক্ট সিলিন্ডার ক্রয় করেন মিরপুরের বেলায়েত মিয়ার গ্রুপের লোকজন। ২৮ আগস্ট সকালে মিরপুর বাজারের বেলায়েত গ্রুপের লোকজন সিলিন্ডার কাটানোর জন্য লেবার ও গাড়ি নিয়ে ওমেরা কোম্পানিতে প্রবেশ করতে চাইলে নতুন বাজার এলাকার শামসু মাস্টার গ্রুপের লোকজনের বাধার মুখে তারা ফিরে আসে। ওইদিন বিকালে আবারও ওমেরা কোম্পানিতে প্রবেশের চেষ্টা করলে শামসু মিয়া মাস্টার গ্রুপ আবার বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। রাতে বেলায়েত মিয়া বাদী হয়ে শামসু মাস্টার, হারুন, তমিজ খাঁ, শাহ আলম, ছুরতসহ ৭ জনকে আসামি করে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। ২৯ আগস্ট সকালে শামসু মাস্টার, হারুন ও তমিজ খাঁ হবিগঞ্জ শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। পথে বেলায়েত গ্রুপের সদস্যরা তাদের আটক করে রাখে। এ খবর নতুন বাজার এলাকায় পৌঁছলে শামসু মাস্টার গ্রুপের লোকজন ওইদিন দুপুরে ঢাকা-সিলেট পুরাতন মহাসড়ক একঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। এ দুই গ্রুপের বিরোধের বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ গত ৭ দিন যাবত চেষ্টা করলেও বিরোধ তাদের গ্রামে ছড়িয়ে পড়ে। এর জের ধরে রোববার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক লোক আহত হন। তাদেরকে উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়।মিরপুর চৌমুহনী ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. তারা মিয়া জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় আমাদের ২০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে আজই মামলা দায়ের করা হবে।সৈয়দ এখলাছুর রহমান খোকন/এফএ/আরআইপি