মধ্যপ্রাচ্যে ইরানে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর অনুরোধ কার্যত প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাজ্যসহ প্রধান পশ্চিমা ও এশীয় মিত্র দেশগুলো। এর ফলে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র এখন অনেকটাই একা হয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকশ মানুষ নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। প্রতিশোধ হিসেবে ইরান বিশ্ববাজারের অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরানের সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র, জায়নবাদী শাসন (ইসরায়েল) এবং তাদের মিত্রদের যে কোনো তেলবাহী জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে।’
মিত্রদের পিছুটানপ্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, দক্ষিণ কোরিয়া এবং চীনকে তাদের নৌবাহিনী মোতায়েনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সাড়া দেয়নি কেউই।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দেশটি বর্তমানে কোনো রণতরী পাঠাবে না। ব্রিটিশ জ্বালানি মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড জানিয়েছেন, নৌপথটি সচল করার জন্য কী ধরনের সহায়তা দেওয়া যেতে পারে তা লন্ডন খতিয়ে দেখছে। এর মধ্যে নৌমাইন শনাক্তে চালকবিহীন প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে। তবে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর বিষয়ে তিনি কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
ফ্রান্স এই যুদ্ধকে ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধ’ আখ্যা দিয়ে এতে জড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। জার্মানিও এই অঞ্চলে ইইউ মিশনের বিস্তৃতি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা ওয়াশিংটনের সাথে পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে এবং ‘সতর্ক পর্যালোচনার পরে’ সিদ্ধান্ত নেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম দুই প্রধান মিত্র জাপান এবং অস্ট্রেলিয়াও জানিয়েছে, বাণিজ্যিক জাহাজকে পাহারা দিয়ে পার করানোর কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।
যুদ্ধের শুরু থেকেই ট্রাম্প ও স্টারমারের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে না দেওয়ায় ট্রাম্প এর আগে স্টারমারের কড়া সমালোচনা করে বলেছিলেন, ‘যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে এমন আচরণ আশা করিনি।’
এমনকি স্টারমারকে তিনি ‘উইনস্টন চার্চিলের বিপরীত’ বলেও খোঁচা দেন। যদিও গতকালের টেলিফোন আলাপে দুই নেতা প্রণালি সচল করার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন, কিন্তু সামরিক সহায়তার বিষয়ে বরফ গলেনি।
ন্যাটোকে ট্রাম্পের হুমকিহরমুজ প্রণালি সচল করতে মিত্র দেশগুলো এগিয়ে না এলে ন্যাটোর ভবিষ্যৎ ‘খুব খারাপ’ হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘এই প্রণালির সুবিধাভোগী যেসব দেশ, তাদেরই নিশ্চিত করতে হবে সেখানে কোনো সমস্যা না হয়।’ তিনি বলেন, ‘যদি কোনো সাড়া না পাওয়া যায় বা জবাব নেতিবাচক হয়, তাহলে আমি মনে করি ন্যাটোর ভবিষ্যতের জন্য তা খুবই খারাপ হবে।’
সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস, কিয়েভ পোস্ট, উইঅনকেএএ/