রহস্যজনক বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে টানা ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হেরে যাওয়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ফাহমিদা হাসান নিশার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বাদ মাগরিব ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের আসকিনা গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে দুপুরে ঢামেকের মর্গে নিশার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। সন্ধ্যায় মোবাইলে এসব তথ্য জানান, নিশার মামা তারিকুল ইসলাম। এদিকে, ঘটনার ১৩ দিন আতিবাহিত হলেও পুলিশ এখনো ওই বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে পারেনি বলে জানা গেছে। জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট ভোর ৬টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সালমানপুর এলাকায় ‘প্রশান্তি’ নামের একটি বেসরকারি ছাত্রী নিবাসের তৃতীয় তলা ভবনের নিচতলায় বিস্ফোরণে নিশা দগ্ধ হন। ওইদিন গভীর রাতে জেলার সদর দক্ষিণ মডেল থানার এসআই শহীদুল বাশার বাদী হয়ে দগ্ধ ছাত্রী ফাহমিদা হাসানকে এক নম্বর আসামি করে আরো দুই ছাত্রীর বিরুদ্ধে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। টানা ১৩ দিন বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর শ্বাসনালীসহ শরীরের ৬৫ শতাংশ দগ্ধ হওয়া নিশা রোববার গভীর রাতে মারা যান। সন্ধ্যায় নিহত নিশার মামা তারিকুল ইসলাম জানান, নিশা খুব মেধাবী ছিল, সে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পেয়েছিল। তিন বোনের মধ্যে সে ছিল সবার বড়। অপর দুই বোন এসএসসি ও পিএসসি পরীক্ষার্থী। বাবা-মায়ের অনেক স্বপ্ন ছিল তাকে (নিশা) নিয়ে, কিন্তু তার মৃত্যুতে গোটা পরিবার আজ দিশেহারা। তিনি আরো বলেন, কার কাছে বিচার চাইবো, পুলিশ বিস্ফোরণের কারণ বের না করে উল্টো নিশাকেই মামলার আসামি করলো। তিনি আরো বলেন, নিশাকে তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না, কিন্তু তার পরিবার সত্যটা জানতে যায়, নিহত নিশা জঙ্গি এবং নাশকতায় সম্পৃক্ত ছিল না, এ সত্যটা তার পরিবার জানতে যায়। কামাল উদ্দিন/এআরএ/এবিএস