স্কুলছাত্রী সুরাইয়া আক্তার রিশার সন্দেহভাজন হত্যাকারী ওবায়দুল খানকে (২৯) ধরিয়ে দিতে পুলিশকে সহযোগিতা করায় সেই তিনজনকে পুরস্কৃত করেছে নীলফামারী জেলা পুলিশ। তারা তিনজন হলেন, মাংস ব্যবসায়ী দুলাল হোসেন, ইজিবাইকচালক ইসমাইল হোসেন (২৫) ও সোনারায় ইউপি সদস্য শাহজাহান আলী (৩৫)।মঙ্গলবার দুপুরে ডোমার থানা চত্বরে অনুষ্ঠিত ওপেন হাউস ডে এবং কমিউনিটি পুলিশিং সভায় তাদের হাতে পুরস্কারের অর্থ তুলে দেন পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন খান। তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেয়া হয়। পুলিশের এমন পুরস্কার পেয়ে দুলাল বলেন, এখন প্রতিদিন অন্তত একটি করে ভালো কাজ করার ইচ্ছা জাগে। স্কুলছাত্রী রিশার খুনী ওবায়দুলকে ধরিয়ে দেয়ার সময় ভাবতে পারিনি আমি প্রশংসিত হবো, মানুষের কাছে এতো সম্মান পাবো। সবার প্রশংসা আরো ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে আমাকে।ঢাকার উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া গত ২৪ আগস্ট পরীক্ষা শেষে স্কুলের সামনের পদচারী-সেতু দিয়ে সড়কের ওপারে যাওয়ার সময় বখাটে দরজি ওবায়দুল তাকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রিশার মা ওবায়দুলকে আসামি করে রমনা থানায় একটি মামলা করেন।গত ৩১ আগস্ট সকালে জেলার সোনারায় বাজার থেকে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি ওবায়দুলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা তিনজন। তারা ওই বাজারে ওবায়দুলকে ঘোরাফেরা করতে দেখে সন্দেহ হলে পুলিশের প্রকাশিত ছবির সঙ্গে মিল পেয়ে তাকে আটক করেন। এরপর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ঢাকায় নিয়ে আসেন।ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহমেদ রাজিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন।এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র মনছুরুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক খায়রুল আলম, ডোমার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাব্বের হোসেন, সোনারায় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, ডোমার বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিউল আলম প্রমুখ।ডোমার থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ রাজিউর রহমান বলেন, রিশা হত্যা মামলার আসামি ওবায়দুলকে ধরিয়ে দেয়ার কাজে পুলিশকে সহযোগিতার জন্য দুলালসহ তিনজনকে আর্থিক পুরস্কৃত করা হয়েছে। জাহেদুল ইসলাম/এএম/এমএস