পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত আর ভাঙনে গত এক মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে আজো সম্পূর্ণ সচল হয়নি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌ-রুটের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট।৪টি ঘাটের ২টি দিয়ে চলছে পারাপার। এ রুটে ১৪টি ফেরি চলাচল করলেও ঘাট সমস্যার কারণে সবগুলো চলতে পারছে না বলে দাবি বিআইডব্লিউটিসি কর্মকর্তাদের। এদিকে, ট্রাফিক পুলিশ বলছে যাত্রীবাহী বাস, গরুবাহী ও কাঁচামালবাহী ট্রাককে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে। ১ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে চলছে পারাপার এবং ৩ নম্বর ঘাটের মেরামত কাজ চলছ, বিকেল পর্যন্ত চালু হতে পারে ঘাটটি ও ২ নম্বর ঘাটের মেরামতের কাজ চলছে। তবে নদী পারের অপেক্ষায় উভয় ঘাটে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। এছাড়া রাজবাড়ী দৌলতদিয়া প্রান্তে নদী পারের অপেক্ষায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, প্রাইভেটকার, অ্যাম্বুলেন্সসহ আটকা পড়েছে প্রায় ৪ শতাধিকের বেশি যানবাহন। গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত ৩ নম্বর ঘাটটি চলাচলের উপযোগী করলেও আজ সকালে আবার ভেঙে যায়। তবে বিকেল পর্যন্ত এ ঘাটটি সচল হবে বলে দাবি বিআইউব্লিউটিএ এর। ট্রাক চালকরা জানান, গত তিনদিন ধরে আটকে ছিলাম ঘাটে। আজ সিরিয়াল পেয়েছি, তবে কখন ফেরি পাব জানি না। টাকা পয়সা শেষ, কাঁচামাল ও গরুবাহী ট্রাকগুলো পারাপার করছে।ট্রাফিক পুলিশ মৃদুল বলেন, ঢাকামুখী পরিবহন ও কাঁচামাল এবং গরুবাহী ট্রাকগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপার করা হচ্ছে এবং পণ্যবাহী ট্রাক চালকদের বলা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু সেতু অথবা মাওয়া কাউড়াকান্দি রুট ব্যবহার করতে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২টি ঘাট বন্ধ। জেলা পুলিশ সুপার সার্বক্ষণিক সিসি টিভির মাধ্যমে ঘাট এলাকা মনিটরিং করছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন আছে।বিআইডব্লিউটিএর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ৪টি ঘাটের ২টি বন্ধ আছে। ২ ও ৩ নং ঘাটে কাজ অব্যাহত আছে। প্রবল স্রোত ও ভাঙনের কারণে যা কাজ করা হচ্ছে তা ভেঙে যাচ্ছে। কোনোভাবেই কাজ করে প্রকৃতির সঙ্গে পেরে উঠছি না। আমাদের কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।রুবেলুর রহমান/এসএস/এমএস