পদ্মা নদীর তীব্র স্রােত আর ভাঙনে গত এক মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে আজও সম্পূর্ণ সচল হয়নি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট।কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ ঘাটের অচলাবস্থা কাটিয়ে না উঠতে পারলে ঈদে ঘরমুখো যাত্রী ও যানবাহন চালকরা পড়বেন চরম দুর্ভোগে। কর্তৃপক্ষ ঘাটগুলো সচল করতে নিরলসভাবে কাজ করলেও পেরে উঠছে না প্রকৃতির সঙ্গে।চারটি ঘাটের দুটি দিয়ে চলছে পারাপার। মেরামত শেষে গতকাল রাতে ৩ নম্বর ঘাটটি সচল করলেও রাত সাড়ে ৩টার দিকে আবার ভেঙে যায়। বিকেলের মধ্যে চালু হতে পারে ঘাটটি ও ২ নম্বর ঘাটটিতেও চলছে মেরামতের কাজ। তবে নদী পারাপারের অপেক্ষায় উভয় ঘাটে আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। এছাড়া রাজবাড়ী দৌলতদিয়া প্রান্তে নদী পারাপারের অপেক্ষায় যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ আটকা পড়েছে শত শত যানবাহন। তবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস, কাঁচামাল ও গরুবাহী ট্রাককে পারাপার করা হচ্ছে। ঢাকামুখী গরুবাহী ট্রাকের এক গরু বেোরী জানান, ঘাটে জ্যাম আছে কিন্তু আমাদের গরুর গাড়ির কোনো সমস্যা হচ্ছে না। এই মাত্র এসে ফেরিতে উঠছি। অপরদিকে ঢাকামুখী বাসযাত্রীরা জানান, বরিশাল থেকে এসে অনেকক্ষণ বসে আছি পানির সমস্যায় অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আমাদের। ফেরি নেই, খাবার নেই, পাশাপাশি প্রচণ্ড গরম।বাসচালকরা বলেন, ‘ফেরিঘাটে এসে যাত্রীদের নিয়ে অনেক সময় বসে আছি, এখনই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে ঈদের সময় কী অবস্থা হবে। আমরা তো কষ্ট পাচ্ছি যাত্রীরাও বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে কষ্ট পাচ্ছে।’ তারা আরো জানান, নদী পার হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকায় এখন আমাদের শিডিউল মেলানো সম্ভব হচ্ছে না। কাউন্টারে যাত্রীরাও গাড়ির দেরি দেখে চেঁচামেচি করছে বলে শুনছি।বিআইডব্লিউটিএ কারিগরি সহকারী মো. রবিউল আওয়াল জানান, দৌলতদিয়া প্রান্তে ১ ও ৪ নম্বর ফেরিঘাট সচল আছে এবং ২ ও ৩ নম্বরের মেরামত কাজ চলছে। গতকাল ৩ নম্বরের র্যামবেজ রেডি করার পর রাতে চালু করলেও নদীর স্রােত, ঘূর্ণন ও ভাঙনের কারণে রাত সাড়ে ৩টার দিকে আবার ভেঙে গেছে। আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে এবং থাকবে।বিআইডব্লিউটিএ উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানান, ৩ নম্বর ঘাটটি ২০/২২ ঘণ্টা কাজ শেষে ঘাট চালু করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ভেঙে যায়। তবে আমাদের চেষ্টা চলছে ঘাট সচল করতে। আশা করছি আজকের মধ্যেই ভাঙনকবলিত ঘাট সচল করতে পারবো।রুবেলুর রহমান/এফএ/আরআইপি