কৃষি যন্ত্রাংশ হিসেবে আমদানি করা কার্টন খুলতেই বেরিয়ে এলো আতরের বড় বড় বোতল। কৃষি যন্ত্রাংশের অপর কার্টনে পাওয়া গেলো থ্রি-পিস, মোটরসাইকেল ও থ্রি হুইলার পার্টস। প্রায় ২৫ শতাংশ শুল্কের এই পণ্য আমদানি করা হয়েছে এক শতাংশ শুল্কের কৃষিপণ্য হিসেবে। একইভাবে ভারতীয় ব্যথানাশক ‘মুভ’ মলমসহ বেশ কিছু ওষুধ আনা হয়েছে ‘ফেসওয়াশ’ ঘোষণা দিয়ে। এভাবেই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আনা প্রায় ১৫ কোটি টাকার আমদানি পণ্য আটক করেছে যশোর বিজিবি। বৃহস্পতিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ২৬-বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর লিয়াকত আলী এসব তথ্য জানান। সোমবার যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের আমড়াখালি চেকপোস্ট থেকে এই পণ্য আটক করা হয়। মেজর লিয়াকত আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোরের ২৬-বিজিবি ও চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবি যৌথ অভিযান চালিয়ে পাঁচটি কাভার্ডভ্যান ভর্তি ভারতীয় পণ্য আটক করে। এই পণ্যের প্রায় পুরোটাই মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা। এর মধ্যে কৃষিপণ্য ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে, আতর, থ্রি-পিস, মোটরসাইকেল ও থ্রি হুইলার পার্টস, ফেসওয়াশের ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে ওষুধ সামগ্রী। আর থান কাপড়ের ঘোষণা দিয়ে আনা হয়েছে পিস কাপড়, প্লাস্টিক পণ্য দেখিয়ে আনা হয়েছে ইমিটেশন গহনা। এভাবে মিথ্যা ঘোষণার সাহায্যে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা হয়েছে প্রায় ৪০টির মত পণ্য আনা হয়েছে। মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে এসব পণ্যের শুল্ক দেয়া হয়েছে প্রায় ৪১ লাখ টাকার। অথচ এসব পণ্যের শুল্ক হবে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়েছে। এই পণ্যের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার কে আর এন্টারপ্রাইজ এবং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রিয়াঙ্কা এন্টারপ্রাইজ। মেজর লিয়াকত আলী আরো জানান, শুল্ক ফাঁকি দেয়া এসব পণ্য সিজার লিস্ট করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর আমদানিকারকরা প্রকৃত শুল্ক পরিশোধ করে তা নিয়ে যেতে পারবেন। মিলন রহমান/এআরএ/এবিএস