দেশজুড়ে

‘গোস্ত টোহাইতে আইছি’

‘কুরবানির ঈদ তো, তাই গোস্ত টোহাইতে আইছি’ (কুরবানির ঈদ। তাই মাংস টোকাইতে আসছি)- কথাগুলো বলছিলেন ভানু বিবি (৭৫) নামের এক বৃদ্ধা। স্বামী মৃত দুখাই সরদার। অভাব অনটনের সংসারে চার ছেলে দুই মেয়ে জন্ম নিলেও খাবারের অভাবে সবগুলো ছেলে-মেয়ে মারা যায়।ভানু বিবি শরীয়তপুর সদর উপজেলার আংগারিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা। ৭৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধা সাহায্য-সহযোগিতার জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ছুটছেন প্রতিদিন। সরকার বয়স্কদের আর্থিক অনুদান দিলেও তার ভাগ্যে জোটেনি সরকারি সেই ভয়স্ক ভাতার কার্ড। জানা যায়, স্বামীর মৃত্যুর পর সংসার চালাতে না পেরে পেটের অভাবে কাজের জন্য ঢাকা, খুলনা সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় ঘুরেছেন তিনি। কিছু বছর কেটেছে বাসায় বাসায় কাজ করে। দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীর নামের যন্ত্রটি বেঁকে বসে তার। ফিরে আসেন নিজের আগের ঠিকানায়। এখানে কোন রকম খেয়ে না খেয়ে দিন কাটছে তার। বয়সের ভারে এখন আর কাজ করতে পারছেন না ভানু বিবি। বিভিন্ন জনের কাছ থেকে সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে বেঁচে আছেন। তার সংসারে তিনি ও তার অন্ধ নাতনি রয়েছে। রোজার ঈদে ফিতরা এবং কুরবানির ঈদে মাংস নিতে ছুটেন বাড়িতে বাড়িতে। প্রতি বছরের মতো ভানু বিবি এবছরও মাংস নিতে বিভিন্ন বাড়িতে ছুটেছেন। কেউ দিয়েছেন আবার কেউ খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। তবে একটু আধটু সাহায্য পেয়েই খুশি তিনি। জানতে চাইলে ভানু বিবি বলেন, ‘আগে ঘরে ঘরে কাম করতাম। এহন আর পারি না। চোহে দেহি না। মানুসও কামে রাহে না। ঘরে বহে থাকলে তো কেউ সাহায্য দিব না। তাই পেটের অভাবে বের হইছি মাংস টোহাইতে। আমি চোহে দেহিনা। তাই নাতিনরে লইয়া বের হইছি।’মো. ছগির হোসেন/এএম/পিআর