দেশজুড়ে

এবার জিহ্বা কাটার ঘোষণা দিলেন এমপি বদি

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী আবদুর রহমান বদি বলেছেন, গুটিকয়েক ইয়াবা ব্যবসায়ীর কারণে টেকনাফ তথা কক্সবাজারের বদনাম হচ্ছে। শিগগিরই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের তালিকা করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি কোনোদিন, কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে এক টাকাও গ্রহণ করেননি উল্লেখ করে বলেন, যদি টাকা নিয়েছি বলে কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে আমি (এমপি বদি) জিহ্বা কেটে ফেলব। রোববার টেকনাফ উপজেলার ছয় ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র, চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর, মেম্বারদের সংবর্ধনা ও সন্ত্রাস, নাশকতা, জঙ্গিবাদ বিরোধী সভায় ইয়াবা প্রতিরোধে উপজেলার ৯১ জনপ্রতিনিধিকে শপথ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আরেক শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী ও মানবপাচারে অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান জাফর আলম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেক জনপ্রতিনিধিই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী, মানবপাচারকারী ও জঙ্গি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত। এ কারণে পুরো কার্যক্রমটি নিয়েই বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে জেলার সর্বত্র। অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের ইয়াবা প্রতিরোধে সকলকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে টেকনাফের উন্নয়নের জনগণের ওয়াদা রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানান।টেকনাফ থানা পুলিশ কর্তৃক নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আটকের নামে বাণিজ্য করায় ক্ষোভ প্রকাশ সংসদ সদস্য বদি বলেন, হয়রানি বন্ধ করুন। না হয় জনগণ ফুঁসে উঠলে অবস্থা ভালো হবে না। আবদুর রহমান বদির উদ্যোগে টেকনাফ উপজেলা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শফিউল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিক মিয়া, সহ-সভাপতি জহির হোসেন এমএ, সহ-সভাপতি এইচএম ইউনুছ বাঙ্গালী, ভাইস চেয়ারম্যান (জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িত) মাও. রফিক উদ্দিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাহেরা আক্তার মিলি প্রমুখ।উল্লেখ্য, এমপি বদি এর আগেও নিজে ইয়াবা ব্যবসায় জড়িত নন বলে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকায় ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে তার ও তার ভাইদের নাম রয়েছে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে যারা সংবাদ প্রকাশ করে সেই সাংবাদিকরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টেক্স (কট) খান বলে উল্লেখ করেন।সায়ীদ আলমগীর/এআরএ/পিআর