বিড়ি নিয়ে বক্তব্য দিয়ে সারা দেশে আলোচিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ফয়জুল হক ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর -কাঁঠালিয়া) আসনে হেরে গেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫৫ হাজার ১২০টি ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম জামাল ধানের শীষ প্রতীকে ৬২ হাজার ১০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
ঝালকাঠি-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২৮ হাজার ৪৩০ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ১৬ হাজার ৪২৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ১২ হাজার ১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। নির্বাচনে ১০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ফয়জুল হক এক সময় বিএনপির রাজনীতি করতেন। ২০২৫ সালের ১২ জুলাই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে তিনি বিএনপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। তিনি মালয়েশিয়া বিএনপির সহ-সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি ঝালকাঠী-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দেন।
আরও পড়ুনমালয়েশিয়া বিএনপি থেকে সরে দাঁড়ালেন অ্যাক্টিভিস্ট ফয়জুল হকএবার নিজেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোষণা ফয়জুল হকের, জেতার আশাঝালকাঠি-১ আসনে জামায়াতের মনোনয়ন পেলেন ফয়জুল হক
দেশে ফিরে গত বছরের ৪ আগস্ট ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্বতন্ত্র এমপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেন। সেদিন তিনি ৬০ থেকে ৭০ হাজার ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরে তিনি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিলে তাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী হিসেবে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
প্রচারণা চলাকালে বিড়ি নিয়ে ফয়জুল হকের একটি বক্তব্য ভাইরাল হয়। নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৯ জানুয়ারি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেয় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
আরও পড়ুননির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ড. ফয়জুল হককে শোকজবিড়ি নিয়ে ভাইরাল বক্তব্যে ২ কোটি ভোট বেড়েছে জামায়াতেরঝালকাঠির দুই আসনেই বিএনপির জয়
নোটিশে বলা হয়, নির্বাচনি প্রচারণাকালে ড. ফয়জুল হক এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে ও ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট প্রার্থনার শামিল। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রচারণা চালানোর অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।
কমিটির কাছে থাকা নির্ভরযোগ্য তথ্য, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৭ জানুয়ারি রাজাপুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত একটি উঠান বৈঠকে তিনি জনসমক্ষে ওই বক্তব্য দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত বক্তব্যকে নেতিবাচক নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে লাভজনক হিসেবে দেখেন ফয়জুল হক। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক ওই বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া ভাইরাল আলোচনা জামায়াতের পক্ষে নতুন করে বিপুল ভোটের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
ড. ফয়জুল হক বলেন, ফেসবুক ব্যবহারে আমাদের সতর্ক থাকতে হয়। কারণ আমরা যা করি, যা বলি সবই ভাইরাল হয়ে যায়। সেদিন একটি বক্তব্য দিয়েছিলাম, সেটাকে নিয়ে এত আলোচনা হচ্ছে, অথচ ওই বক্তব্যের কারণে জামায়াতের ভোট বেড়েছে ২ কোটি।
ড. ফয়জুল হক বলেন, আমি বলেছি আমার কর্মীরা চায়ের দোকানে গেলে চা খাওয়া অবস্থায়ও দাঁড়িপাল্লার দাওয়াত দেবে। কেউ যদি বিড়ি খেয়েও থাকে, সেখানেও দাওয়াত পৌঁছাবে। এতে সমস্যা কোথায়? বিড়ি খাওয়া মানুষ কি আমাদের ভোট দেবে না? দাড়ি ছাড়া মানুষ কি ভোট দেবে না?
ভাইরাল হওয়াকে নেতিবাচক হিসেবে না দেখে ড. ফয়জুল হক এটিকে রাজনৈতিক শক্তি ‘মার্কেটিং’ হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, এতে আমাদের জন্য দুই কোটি টাকার মার্কেটিং হয়ে গেছে। দুই মিনিটের বক্তব্যই দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া এক ধরনের উপহার।
এমএমএআর