দেশজুড়ে

বায়নাই কাল হলো মাইশার

বেড়াতে যাবার বায়নাই কাল হলো মেধাবী ছাত্রী মাইশার জীবনে। যে বাবার কাছে বায়না ধরে কক্সবাজার বেড়াতে গিয়েছিল মাইশা সেই বাবার সাথেই পৈশাচিক মৃত্যুর শিকার হতে হলো তাকে। কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে হরতাল-অবরোধ সমর্থকদের বোমা হামলায় নিহত হন যশোরের ঠিকাদার নূরুজ্জামান পপলু (৪৯) ও তার মেয়ে মাইশা (১৪)।নিহত পপলুর বন্ধু আশিকুজ্জামান বিজু জানান, পপলু কক্সবাজারে বন বিভাগের পলিব্যাগ সরবরাহের একটি ঠিকাদারি কাজ পান। এজন্য ২৯ জানুয়ারি রাতে তিনি কক্সবাজার রওনা হবার প্রস্তুতি নেন। এসময় মেয়ে কক্সবাজার বেড়াতে যাবার বায়না ধরে। অনেকটা আকস্মিক সিদ্ধান্তে তিনি স্ত্রী মিতা ও মেয়েকে সাথে নেন বায়না পূরণের জন্য। কক্সবাজারে বেড়ানো শেষে যশোরের পথে রোববার রাতে রওনা হয়ে ভোররাত সাড়ে ৩টায় অবরোধকারীদের বোমা হামলার মুখে পড়েন তারা। যাত্রীবাহী ওই পরিবহনে নিহত ৭ জনের মধ্যে এই দুজন যশোরের। হামলায় পপলুর স্ত্রী মিতা সামান্য আহত হন। তাদের একমাত্র পুত্র ঢাকার একটি টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ছাত্র। নিহত পপলুর বাবা রোকন উদ্দিন অবসরপ্রাপ্ত ব্যাংক কর্মকর্তা এবং মা নূরজাহান বেগম ঘোপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা।মঙ্গলবার সকালে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের বাসায় গিয়ে দেখা যায় নিহতের স্বজনেরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছেন। পপলুর বন্ধুরাও পরস্পরকে জড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে পপলুর বৃদ্ধ মা-বাবাকে তার ছেলে ও নাতনীর মৃত্যুও সংবাদ এখনও পর্যন্ত খবর জানানো হয়নি। এমএএস/আরআই