দেশজুড়ে

অল্প বৃষ্টিতেই শরীয়তপুর পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা

শরীয়তপুর সদর পৌরসভা ও ডামুড্যা পৌরসভা ১ম শ্রেণির হলেও এখানে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পুকুরে পরিণত হয়। প্রভাবশালীরা খাল ভরাট করে বিভিন্ন পাকা স্থাপনা তৈরি করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। তাই সামান্য বৃষ্টিতেই  সৃষ্টি হয় চরম জলাবদ্ধতা।শরীয়তপুর সদর পৌরসভা ও ডামুড্যা পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৫ সালে ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে শরীয়তপুর সদর পৌরসভা গঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে পৌরসভাটিকে ২য় শ্রেণি ও ২০০৭ সালে ১ম শ্রেণির পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। এই পৌরসভাটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ মানুষের বসবাস।এই বিপুল জনসংখ্যক অধিবাসীর পৌর শহরে রয়েছে মাত্র সাড়ে ৫ কিলোমিটার ড্রেন। যার ৮০ শতাংশই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো ও ভরাট অবস্থায় রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নিচে তলিয়ে যায় পৌর শহরের অধিকাংশ আবাসিক এলাকা। পৌরসভা গঠনের পর ২৯ বছরে শহরের গুরুত্ব বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রবাহমান ৮ থেকে ১০টি খালের কোনটি সম্পূর্ণ আবার কোনটি আংশিক ভরাট ও দখল করে সরকারি, বেসরকারি এবং বিভিন্ন দফতরসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা পাকা স্থাপনা তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন।পাশাপাশি পৌরসভার পুরনো ৩ শতাধিক দিঘী, পুকুর, জলাশয়, জলাধার প্রশাসনের নাকের ডগায় বালু দিয়ে ভরাট করে প্লট বানিয়ে বিক্রি করায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে পৌরসভার পানি নিষ্কাশনের বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।অন্যদিকে, ডামুড্যা পৌরসভাকে ২০১৬ সালে ১ম শ্রেণির পৌরসভায় রূপান্তর করা হয়। এই পৌরসভাটিতে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার মানুষের বসবাস। ডমুড্যা পৌর শহরে রয়েছে মাত্র দেড় কিলোমিটার ড্রেন। যার ৭৫ শতাংশই রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো ও ভরাট অবস্থায় রয়েছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই ডামুড্যা উপজেলা চত্বর, পৌরসভা, ডামুড্যা বাজারসহ বেশির ভাগই পানিতে তলিয়ে যায়।শান্তিনগরের বাসিন্দা বাহাদুর বলেন, মাত্র ২৫-৩০ বছর আগে কীর্তিনাশা নদী থেকে পৌর এলাকার ১০টি খাল দিয়ে ছোট বড় নৌযান চলাচল করতো। শহরের ব্যবসায়ীরা এ খাল দিয়ে নৌপথে ঢাকা, চাঁদপুর, মাদারীপুর, বরিশালসহ বিভিন্ন মোকাম থেকে তাদের পণ্য আনা-নেয়া করতেন। বর্তমানে স্থানীয় প্রভাবশালীরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে খালগুলো দখল করে দোকানঘর, পাকা ইমারত এমনকি নির্মাণ করেছে বহুতল ভবন। এর ফলে পানি নামতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।নিরালা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা মনির হোসেন বলেন, আমরা শহরের প্রাণকেন্দ্রে বাস করলেও একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তা তলিয়ে ঘরে চলে যায়। অপরিকল্পিত ভবণ নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশনের সব ব্যবস্থা বন্ধ। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার এই অবস্থা।ডামুড্যা পৌর এলাকার নান্নু মুন্সী, আলমগীর হোসেন বলেন, পৌরসভা হওয়ার আগে অনেক ভাল ছিলাম। এখন খাল, পুকুরসহ জলাশয়গুলো ভরাট করে ফেলা হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের পৌরসভার প্রধান প্রধান স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।ডামুড্যা পৌরসভার মেয়র হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল বলেন, ডামুড্যা বাজারে ড্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বৃষ্টি হলে ডামুড্যা উপজেলা চত্বরটি পানিতে প্লাবিত হয়ে যায়। ড্রেন তৈরি করতে পারলে পানি এমনভাবে জমতে পারতো না। বরাদ্দ পেলে ড্রেনের কাজ ধরবো আশা করছি।শরীয়তপুর সদর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতয়াল বলেন, আমরা সব সময়ই পৌরবাসীকে যথাযথ নাগরিক সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি। পৌরসভায় বেশ কিছু ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছে। তবে পর্যাপ্ত অর্থ ও সরকারি সহায়তা কম থাকায় পরিকল্পনা ও প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করতে পারছি না। আশা করি নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ড্রেন তৈরি করে জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব।ছগির হোসেন/এসএস/আরআইপি