ঝিনাইদহে আউশচাষীরা ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছে। জমির ধানগুলোতে দানা আসার আগেই ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট (বিএলবি) রোগের কারণে এ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কৃষকরা জানান, ধানের জমিগুলোতে প্রথমে খয়েরি রং ধারণ করে এবং আস্তে আস্তে সকল স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। এক পর্যায়ে ধানের পাতাগুলো শুকিয়ে যায় এবং ধানের গাছগুলো খড়ের (বিচুলি) মতো হয়ে যায়। তবে কৃষি বিভাগ জানায়, এ রোগের আক্রমণ দেখামাত্রই মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন। যে সকল কৃষক রোগের জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি তাদের জমিতে ফলন কমে যেতে পারে।ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ আরো জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ৬টি উপজেলায় ৮৬ হাজার ২৪২ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করেছে চাষীরা। গত কয়েক দিনের বৃষ্টি এবং প্রতিকূল আবহাওয়াজনিত কারণে জেলার কোনো কোনো মাঠে এই ধরনের রোগের আক্রমণ দেখা গেছে। ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মীদের পরামর্শ না পেলেও সার কীটনাশক ব্যবসায়ীদের পরামর্শে বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির ছত্রাকনাশক ব্যবহার করছেন। ধান চাষী সদর উপজেলার বাজার গোপালপুর গ্রামের মজনুর রহমান জানান, এক বিঘা জমিতে রত্না ধানের আবাদ করেছি। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই জমির ধানের পাতাগুলো শুকিয়ে গেছে। এই ধানে নিশ্চিত ফলন বিপর্যয় ঘটবে বলে তিনি দাবি করেন। একই ধরনের কথা জানালেন কৃষক সাইদুর রহমান, মিন্টু মিয়া।ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড.খান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, এই রোগকে ব্যাকটেরিয়াল লিফ ব্লাইট বা সংক্ষেপে বিএলবি বলা হয়। এই রোগের আক্রমণ দেখা দেয়া মাত্রই ক্রোসিন প্রতি লিটার পানিতে ১০ গ্রাম ওষুধ মিশিয়ে ১০ শতক জমিতে স্প্রে করলে দ্রুত ফল পাওয়া যাবে। এছাড়াও রোগের ধরন বুঝে বাজারের অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করলেও ভাল ফল পাওয়া যাবে।আহমেদ নাসিম আনসারী/এসএস/এমএস