দেশজুড়ে

পোড়া কপাল পোড়াই রইল

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ৯টি গ্রামের মধ্যে ৭টি গ্রাম পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের কবলে রয়েছে কলমির চর রিয়াজ উদ্দিন মাদবরের কান্দি ও বেপারী কান্দি গ্রাম। তিন বছর আগেও এই ইউনিয়নটি ছিল অন্য ইউনিয়নগুলোর মতোই। তিন বছরের ভাঙনে কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ৯০ ভাগ পদ্মা নদীর গর্ভে হারিয়ে গেছে। তাই ঘর-বাড়ি ভেঙে যাওয়া পরিবারগুলো অন্যত্র বাসা বেধেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে ফসলি জমি, পাকা সড়ক, নৌকা ঘাট, ঘড়-বাড়ি, মসজিদ, ব্রিজসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।কুন্ডেরচর ইউনিয়নবাসী জানায়, এক সপ্তাহ আগে আমাদের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনি নিয়ে কোথায় যে থাকবো বুঝে উঠতে পারছি না।  আমাদের ঘড়-বাড়ি ভেঙে গেল তাই সবকিছু নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছি। আমাদের বিপদের দিনে চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কোনো সহায়তা পেলাম না। আমরা বোধহয় দেশের বোঝা, আমাদের বাঁচা মরায় কার কি আসে যায়?রিজিয়া বেগম জানান, আমাদের বিপদে মেম্বার, চেয়ারম্যন পাশে থাকলেও সাহস পেতাম। তাদের কাছেতো আমরা সাহায্য চাইতাম না। তাদের কোনো খোঁজ খবরও নাই। স্কুল, মাদরাসাও নদীর মধ্যে। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার আর কোনো ব্যবস্থা রইল না। আমাদের পোড়া কপাল পোড়াই রইল, দোষ দিমু কার। এখন একজনের বাড়িতে পাটনা দিছি। বেশি দিন ওই বাড়িতে থাকতে পারব না।কুন্ডেরচর ইউনিয়নের মনির হোসেন, নাজির হোসেন মাদবর, আবু সিদ্দিক হাওলাদার ও কল্পনা বেগম বলেন, আপনারা আমাদের জন্য কি করবেন? ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান, এমপিই আমাদের খবর নেয় না। গত ৩ বছরে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। জানা যায়, ইতোমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তবে জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে কুন্ডেরচর ইউনিয়নের ৬৫৩টি পরিবার, বিলাসপুর ইউনিয়নের ১৫৩টি পরিবার ও বড়কান্দি ইউনিয়নের ৬৫৭টি পরিবারকে সরকারিভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা হয়েছে। তিনটি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৩টি পরিবারকে ১৪ লাখ ৬৩ হাজার নগদ টাকা ও ১ হাজার ৯৭ মণ ২৫ কেজি চাল দেয়া হয়েছে।জাজিরা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারিভাবে জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর, বিলাসপুর ও বড়কান্দি ইউনিয়নের ১ হাজার ৪৬৩টি পরিবারকে সাহায্য করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সরকারিভাবে নগদ টাকা ও চাল বিতরণ করা হয়েছে।  ছগির হোসেন/এসএস/এমএস