আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বয়স্ক বৈষম্য দূর করুন’। দিবসটি পালনের জন্য শনিবার সকালে নওগাঁ শহরের পুরাতন কালেক্টরেট চত্বরে বিভিন্ন মহল্লা থেকে শোভাযাত্রায় যোগ দিতে এসেছিলেন শতাধিক প্রবীণ। প্রতিবছরই শোভাযাত্রায় যোগ দিতে আসেন তারা। কিছু বেসরকারি সংস্থা এসব প্রবীণদের ডেকে নিয়ে আসেন। শোভাযাত্রা ও আলোচনার পর কিছু উপহার দিয়ে বিদায় করে দেন। আসলে কতটুকু তাদের অধিকার আদায় হলো কিনা তা কেউ দেখেন না। শুধু বছরের একটি দিনে শোভাযাত্রা ও আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে থাকে প্রবীণদের এ অধিকার।শোভাযাত্রায় এসেছিলেন বয়োজ্যেষ্ঠ তাছির উদ্দিন, আব্দুল জব্বার, বজলুর রহমান, রমিছা, হালিমা, ভানুসহ অনেকেই। কয়েকজন প্রবীণদের সঙ্গে কথা হয় এ বয়সে এসে তাদের চাওয়া পাওয়ার বিষয় নিয়ে।প্রবীণ তাছির উদ্দিন জানান, গত ১৫ বছর ধরে শহরের চকদেবপাড়ায় বসবাস করছেন। দীর্ঘদিন শহরে বসবাস করায় পৌরসভার ভোটারও হয়েছেন তিনি। গ্রামের বাড়ি ছিল জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি গ্রামে। চার ছেলে ও চার মেয়ে। মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। ছেলেরা বিয়ে করে সবাই যে যার মতো সংসার করছেন।তিনি বলেন, আমরা স্বামী-স্ত্রী দু’জন। সন্তানরা কেউ দেখাশুনা করেন না। এখনো হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে হয়। রাজমিস্ত্রীর জোগাড়ি হিসেবে কাজ করি। মাঝেমধ্যে কৃষি কাজও করি। শরীর যতক্ষণ চলে ততক্ষণ কাজ হয়। যেদিন কাজে যেতে পারি না দু’জনে সেদিন কষ্টের মধ্য দিয়ে চলি।
বয়োজ্যেষ্ঠ বজলুর রহমান বলেন, শেষ বয়সে এসে আমাদের মতো বয়স্কদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই বয়সে ছেলে-মেয়েরা আমাদের বোঝা মনে করে। সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। গরীব হলেও আমাদের কপালে জোটে না বয়স্ক ভাতার কার্ড। কাউন্সিলরা ৩-৪ হাজার করে টাকা চায় একটা কার্ড করে দেবে বলে। তিনবেলা ঠিক মতো খেতে পারি না সেখানে এতো টাকা আবার পাবো কোথায়।বৃদ্ধা ভানু বেগম বলেন, আমার চার ছেলে ও এক মেয়ে। চোখের নজর কমে গেছে। এ বয়সে কেউ দেখে না। কষ্ট করে গরু ছাগল দেখা শুনা করি। মানুষের বাড়িতে সময় সময় কাজও করি।শেষ বয়সে সব প্রবীণই চায় একটু ভাল থাকতে। এ বয়সে এসে সবাই সন্তানের কাঁধে ভর করে থাকতে চায়। কারো ঠাঁই হয়, আবার কারো কষ্টে জীবন পাড়ি দিতে হয়। সব বাবা মায়ের আশা শেষ বয়সে সন্তানরা তাদের একটু দেখা শুনা করবে। সবাই মিলে মিশে একত্রে থাকার। শেষ বয়সে প্রবীণদের মনের সুখটাই বড় সুখ।আব্বাস আলী/এএম