দেশজুড়ে

কুষ্টিয়ায় মানবসেবায় ভূমিকা রাখছে গড়াই স্টুডেন্টস ফোরাম

গড়াই স্টুডেন্টস ফোরাম। একটি স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষার্থী সংগঠন, যা শুধুমাত্র স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের দ্বারা পরিচালিত। ২০০৭ সালে কুষ্টিয়া অঞ্চলের এক ঝাঁক তরুণ তরুণীকে নিয়ে এই সংগঠনটির পথচলা। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে সংগঠনটি। সমাজের নির্যাতিত, অবহেলিত, হতদরিদ্র নারী, শিশু, কিশোর-কিশোরী ও আদিবাসীসহ সকলের পারিবারিক, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় ও আইনের অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে।সম্প্রতি রাখি নামে এক মেয়ের চুলার আগুনে শরীরের ৬০ ভাগ অংশ পুড়ে যায়। দরিদ্রতার কারণে সে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেনি। পরে গড়াই স্টুডেন্টস ফোরামের মাধ্যমে রাইনার এবার্ট নামে একজন বিদেশি নাগরিক রাখির চিকিৎসায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। ফলে আজ রাখি সুস্থ।একইভাবে সহযোগিতা করেন নিহারোন বেগম নামক এক দরিদ্র নারীকে। তিনি চোখে দেখতে পারছিলেন না। এখন তিনি ফিরে পেয়েছেন চোখের আলো।এছাড়াও বয়ঃসন্ধিকালে প্রতিটি কিশোর-কিশোরী তার শরীরের পরিবর্তন দেখে বিশেষভাবে কৌতূহলী হয়ে পড়ে। কিন্তু তারা কি করবে বুঝতে পারে না। এসব কিশোর-কিশোরীকে নিয়ে তাদের সচেতনতামূলক একটি ব্যতিক্রমধর্মী ‘চিঠি উৎসব’ নামক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গড়াই স্টুডেন্টস ফোরাম। এর মাধ্যমে কিশোর-কিশোরীরা বিভিন্ন বোধগম্য তথ্য আদান প্রদান করে বয়ঃসন্ধিকালের সমস্যা ও প্রতিকার বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে।এছাড়াও সামাজিক অসংখ্য কার্যক্রমের মধ্যে- আদিবাসীদের যাবতীয় কুসংস্কার দূর করে তাদের মূলধারার শিক্ষায় নিয়ে আসা এবং তাদের সমাজের মেয়েদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করা। এ ব্যাপারে গড়াই স্টুডেন্টস ফোরামের স্বপ্নদ্রষ্টা সভাপতি বাপ্পী জাগো নিউজকে বলেন, সংগঠনটিকে নিয়ে আমাদের অনেক স্বপ্ন। আমরা ভবিষ্যতে একটি হাসপাতাল এবং এতিম শিশুসহ সব ধরনের প্রতিবন্ধীদের জন্য একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করতে চাই। এছাড়াও গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনেরও ইচ্ছা রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সমাজের সব শ্রেণির মানুষের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এমএএস/পিআর