মেয়েটির শরীর দেখে মনে হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্নস্থানে পোড়ার দাগ রয়েছে। তার ডান হাতের বাহু ও কোমড়ের হাড় ভাঙা। হাতের নখগুলোতে সিরিজ ঢুকানো হয়েছে মনে হচ্ছে। এছাড়াও শরীরের বিভিন্নস্থানে প্লাজ দিয়ে মাংস তুলে নেয়া হয়েছে। সে খুবই অসুস্থ। তাকে দ্রুত রংপুর হাসপাতালে স্থান্তান্তর করার দরকার। রোববার ডিমলা হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখার পর এভাবেই বলছিলেন জরুরী বিভাগের ডাক্তার ইয়াজমিন ইসলাম। গুরুত্বর অসুস্থ মেয়েটির নাম আর্জিনা বেগম (১১)। বাড়ি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সানিয়াজান ইউনিয়নের আরজি শেখ সুন্দর গ্রামে। সে ওই গ্রামের আনছের আলীর কন্যা।এলাকাবাসী জানায়, অভাবের তাড়নায় ২০০৯ সালে আনছের আলী কন্যা আর্জিনা বেগমকে টাঙ্গাইলের বিশ্বাস বেতটার সিংনাত পাড়ার আমির উদ্দিনের ছেলে তাজুল ইসলামের বাড়িতে কাজে মেয়ের হিসেবে পাঠায়। আর্জিনা সেখানে দীর্ঘ ৭ বছর থেকে কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ করে আসছিল। এরপর গত এক বছর থেকে কারণে অকারণে আর্জিনাকে তাজুল ইসলামের স্ত্রী আমেনা বেগম ও কন্যা লাভলী আক্তার নির্মম নির্যাতন করে আসছে। সে অসু্স্থ থাকায় কুরবানি ঈদে তাকে বাড়ি আসতে দেয়নি তারা।গত বৃহস্পতিবার বিকেলে মেয়েটির দাদা নুর মোহাম্মদ আর্জিনাকে আনতে গিয়ে দেখে সে বিছানা থেকে উঠতে পারছে না। এ দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান নুর মোহাম্মদ। এরপর শনিবার সকালে আর্জিনাকে টাঙ্গাইল থেকে ডিমলায় তার নানার বাড়িতে নিয়ে আসে। মেয়েটির করুন অবস্থা দেখে গয়াবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ ইবনে ফয়সাল মুন রোববার দুপুরে তাকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তি করেন। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের তাজুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জাগো নিউজকে বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি সত্য নয়। আমার পরিবারের লোকজন তার উপর নির্যাতন করেছে কিনা বলতে পারবো না। ডান হাতের ও কোমড়ের হাড় ভাঙা প্রসঙ্গে বলেন, সেটি আগে থেকে ভাঙা ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ঘায়ের দাগ রয়েছে। মেয়েটি বিয়ে দিলে যাবতীয় খরচ দেয়ার জন্য পরিবারকে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউর করিম জাগো নিউজকে বলেন, মেয়েটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তাকে চিকিৎসার বিষয়য়ে তকারকি করতে বলা হয়েছে। মেয়েটির পরিবারকে থানায় দ্রুত মামলা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।জাহেদুল ইসলাম/এমএএস/পিআর