শরীয়তপুরের তিনটি উপজেলায় ছয়টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।আর কিছুদিন পরই শুরু হচ্ছে জেএসসি, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা এবং প্রাথমিক সমাপনী পরিক্ষা। এ বিদ্যালয়গুলো নদী ভাঙনের কবলে পড়ায় বিপাকে পড়েছে বিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এ বিদ্যালয়গুলোতে প্রায় ২ হাজার ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে।নদীগর্ভে বিলীন হওয়া বিদ্যালয়গুলো হলো- জাজিরা উপজেলার সুরতখাঁরকান্দি জগৎজননী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কলমির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুন্ডেরচর হাসেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং আলহাজ মো. ইসমাইল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়। ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরভাগা হাওলাদার কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং গোসাইরহাট উপজেলার ছৈয়ালপাড়া নান্নু মুন্সি কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। জেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়গুলোর জমি ও ভবন ভাঙনে বিলীন হয়ে যাওয়ায় অন্যত্র ক্লাস চলছে। জাজিরা উপজেলার আলহাজ মো. ইসমাইল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির পরীক্ষাগুলো হচ্ছে জাজিরা উপজেলার কাকড়া ভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বর কাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।কুন্ডেরচর হাসেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে ইয়াকুব মাদবর কান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এবং কলমির চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্লাস চলছে কালু বেপারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। আর চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জায়গার অভাবে এখনো ক্লাস করাতে পারছেন না।আলহাজ্ব ইসমাইল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কুন্ডেরচর হাসেম আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানে আলম, সুরমা আক্তার, অনিক ও তামিম হোসেন বলে, আমাদের চোখের সামনে বিদ্যালয় পদ্মা নদীর গর্ভে চলে গেছে। সামনে আমাদের পরীক্ষা। ক্লাস না করতে পারলে ভালো রেজাল্ট করতে পারবো না। আলহাজ্ব ইসমাইল মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপক কুমার দত্ত বলেন, তীব্র ভাঙনে বিদ্যালয়ের ভবনটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা চোখ দিয়ে দেখলাম কিছুই করতে পারলাম না। তবে এ বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষাগুলো হচ্ছে জাজিরা উপজেলার কাকড়া ভোগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নড়িয়া উপজেলার ঈশ্বর কাঠি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।জাজিরা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, জাজিরা উপজেলার ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। পদ্মার ভাঙনে বিদ্যালয়গুলো নদীগর্ভে চলে গেছে। আমরা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যত্র পাঠদানের ব্যবস্থা করেছি এবং ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সাহায্য করা হয়েছে। শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিদ্যালয় ভবনগুলো পদ্মার গর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় পাঠদানে কিছু সমস্যা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান স্বাভাবিক রাখতে।জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হোসাইন খান বলেন, তীব্র ভাঙনে বিদ্যালয়গুলো পদ্মা নদীরগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়গুলোর ক্লাস করানোর জন্য অন্যত্র টিনের ঘর তৈরি করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যাতে করে লেখাপড়ায় পিছিয়ে না পড়ে।ছগির হোসেন/এসএস/পিআর