বগুড়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নব্য দুই সদস্য আব্দুল হাকিম ও মাহমুদুল হাসান বিজয়। তারা জেএমবির সুইসাইডাল স্কোয়াডের শেষ ধাপ ‘হিযরত’ করার জন্য মনোনীত হয়েছিলেন। কিন্তুু শেষ মুহূর্তে নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার জন্য আত্মসমর্পণ করেন তারা। বুধবার বগুড়ার শহীদ টিটু মিলনায়তনে আয়োজিত জঙ্গিবাদবিরোধী সুধী সমাবেশে তারা আত্মসমর্পণ করেন। এসময় সৎ জীবন যাপনের জন্য সরকারের পূর্ব ঘোষিত পুরস্কারের ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকার চেক তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।র্যাব সূত্র জানায়, আত্মসমর্পণ করা দুই জঙ্গির মধ্যে আব্দুল হাকিমের বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার কামারপাড়া গ্রামে। মাহমুদুলের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়। এদের মধ্যে হাকিম গুলশান হামলায় নিহত জঙ্গি খায়রুলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহপাঠী ছিলেন। তিনি জঙ্গি কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত হয়ে কয়েকদিন ঢাকায় অবস্থানও করেন।এছাড়া মাহমুদুল জঙ্গি দলে যোগ দেয়ার জন্য একেবারে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। জঙ্গিদের ভাষায় এটাকে ‘হিযরত’ বলে। তবে চূড়ান্ত ‘হিযরতের’ আগে তিনি ফিরে আসেন এবং পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে র্যাব-১২ এর কাছে নিয়ে যায়। র্যাব-১২ এর অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন খান জানান, জেএমবির সাংগঠনিক কার্যক্রমের সঙ্গে দুজনই প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। সমাবেশে র্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহম্মেদ, বগুড়া সদর আসনের এমপি নুরুল ইসলাম ওমর, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মমতাজ উদ্দিন ও ইমাম মোয়াজ্জিন সমিতির সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বগুড়ার জেলা প্রশাসক আশরাফ আলী, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামানসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সুধিজনরা উপস্থিত ছিলেন।লিমন বাসার/এফএ/আরআইপি