উচ্চফলনশীল ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন ড্রাগন ফল চাষ হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। অনুকূল আবহাওয়া ও উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় এই এলাকার কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে ড্রাগন ফলের চাষ। সম্প্রতি মালয়েশিয়া, চীন, শ্রীলঙ্কাসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে ব্যাপকভাবে এই ফলের চাষ হচ্ছে। নাতিশীতোষ্ণ ও উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের জলবায়ু এই ক্যাকটাস প্রজাতির বিদেশী ফলটি এখন বাংলাদেশেও চাষের খুবই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জেলার নগরকান্দা উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রামে এই ড্রাগন ফলের চাষাবাদ লক্ষ্য করা গেছে। প্রচুর ভিটামিনসমৃদ্ধ ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন এবং বাজারে দাম বেশি থাকায় কৃষকরা এগিয়ে আসছেন ড্রাগন চাষে। এ এলাকায় উন্নতজাতের লাল ড্রাগন ফল (সাদা শাঁস) ও লাল ড্রাগন ফল (রঙিন শাঁস) বেশি চাষ হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।উপজেলার তালমা ইউনিয়নের সন্তসী গ্রামের ইউনুস সেখ গত বছর ১২ শতাংশ জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফলের চাষ করেন। এ এলাকার আবহাওয়ায় ড্রাগন ফল চাষ খুবই উপযোগী। উচ্চফলনশীল ও লাভজনক হওয়ায় আমার দেখাদেখি এই এলাকার বেশ কিছু কৃষক ব্যাপক হারে ড্রাগন ফল চাষে উৎসাহিত হচ্ছে।যেসব জমিতে সারাদিন সূর্যের আলো পড়ে, বর্ষায় পানি ওঠে না বা স্যাঁতস্যাঁতে থাকে না এমন স্থানে এই ফলের চাষ করা হচ্ছে। বাগান করার মাত্র ৯ মাসের মধ্যে গাছে ফল ধরতে শুরু করে। বাড়ির আঙিনায় বাউন্ডারির মধ্যে ৭ শতাক জমিতে চাষ করেছে এই ফল। বর্তমানে এক একটি ফলের ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়েছে বলে জানান ওই উপজেলার জুঙ্গুরদী গ্রামের ড্রাগন ফল চাষি সামাদ মাস্টার। ৪ থেকে ৫ বছর বয়সের একটি পূর্ণাঙ্গ গাছে প্রায় এক কেজি ওজনের ড্রাগন ফল পাওয়া সম্ভব হবে। উপযুক্ত পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা থাকলে একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ থেকে ২০ থেকে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত ফলন পাওয়া যাবে। আর একটি গাছ থেকে বছরে ৮০ কেজি পর্যন্ত ফলন হয়ে থাকে জানা গেছে।প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৬০০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা দরে জমি থেকেই বিক্রি হতে দেখা গেছে। খুবই মিষ্টি ও টক-মিষ্টি স্বাদের ড্রাগন ফলে প্রচুর স্বাস্থ্য উপকারিতা ও প্রসাধনী গুণ থাকায় এর ব্যাপক চাহিদা। এই ফলে প্রচুর আঁশ থাকায় হজম শক্তি বাড়াতে ও চর্বি কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ক্যারোটিন থাকায় স্মৃতি শক্তি ও চোখের জ্যোতি বাড়ায়। এছাড়া এই ফলে বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন ও পুষ্টিগুণ থাকায় ক্ষুধা বাড়ায়, স্বাভাবিক কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি করে, রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমায়, হাইপার টেনশন কমায়, ত্বকের মসৃণতা ও আর্দ্রতা ধরে রাখে, শরীরের রক্ত প্রবাহ বাড়ায়, খারাপ কলেস্টোরোল ও রক্তচাপ কমায় এবং রক্তের শিরা প্রশস্ত করে ও মাইগ্রেনের ব্যাথা কমায়।ড্রাগনের সাদা শাঁসের রস প্রসাধন গুণের এক অন্যান্য উপকরণ। ড্রাগন ফলের রস দিয়ে তৈরি প্রসাধনী ব্যবহার করলে স্বাভাবিক বার্ধক্য বিলম্বিত করে, ত্বকে ভাজ পড়া বন্ধ হয়, ত্বকের রেখা ও কুচকানো দাগ মুছে লাবণ্যতা বৃদ্ধি করে। ড্রাগন গাছের কচি ডগা বা কাঁচা ড্রাগন ফলের পেস্ট মুখ ও ত্বক পরিচর্যায় খুবই উপকারী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আশুতোষ কুমার বিশ্বাস বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সহযোগিতায় উপজেলার কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বিনামূল্যে উপকরণ, প্রাথমিক খরচ প্রদান করে ড্রাগন ফল চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এই উপজেলার ১৫ জন কৃষক জনপ্রতি দশ থেকে পঁচিশ শতাংশ জমিতে বর্তমানে নগরকান্দায় ড্রাগন ফলের চাষ করছেন। এছাড়া কেউ কেউ বসত বাড়ির আঙিনায়, ভবনের ছাদে ড্রাগন ফলের চাষ করছে। ড্রাগন ফল চাষে এখানকার আবহাওয়া খুবই উপযোগী হওয়ায় পরীক্ষামূলক চাষ করে ভালোই সফলতা পাচ্ছে কৃষকরা।এআরএ/এবিএস