জাতীয়

চালকের ভুলে বাস পন্টুন থেকে নদীতে পড়েছে, দাবি সৌহার্দ্যের আরেক চালকের

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে পন্টুন থেকে পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ ঘটনায় একই পরিবহনের আরেক চালক দাবি করেছেন, চালকের ভুলের কারণে বাস পন্টুন থেকে নদীতে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরির অপেক্ষায় ছিল সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস। এ প্রতিবেদক বাসে থাকা চালকের কাছে গতকালের ঘটনা সম্পর্কে জানতে চান।

বাস চালক আসলাম জাগো নিউজকে বলেন, গতকালের ভিডিওটি আমি দেখেছি। একজন ড্রাইভারের ওপর অনেক বড় দায়িত্ব। ৪০/৫০ জন যাত্রীর জীবন ড্রাইভারের হাতে থাকে। এখানে অন্য কারও দোষ নেই। একমাত্র ড্রাইভারের ভুলের কারণে বাস নদীতে পড়ে যায়।

এই চালক বলেন, হাওয়া না থাকায় হয়তো ড্রাইভার ব্রেক চাপতে পারেনি। কিন্তু হাওয়া আছে কিনা তা মিটারে দেখে গাড়ি চালাতে হয়। হয়তো ড্রাইভার হাওয়া না দেখেই গাড়ি ফেরিতে উঠাতে চেয়েছিল।

বাসে থাকা যাত্রী আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, গতকাল যে কোম্পানির বাস নদীতে পড়েছে সেই একই কোম্পানির বাসে ঢাকায় যাচ্ছি। টিকিট আগে কেটেছি এ কারণে অন্য বাসে যেতে পারিনি। বাধ্য হয়েই সৌহার্দ্য বাসেই যাচ্ছি।

ভয় করছে কিনা জানতে চাইলে এই যাত্রী বলেন, এখন ফেরির আগে আছি। ফেরিতে ওঠার আগেই আমরা নেমে হেটে ফেরিতে উঠবো।

ফজলুল করিম নামের আরেক যাত্রীও ফেরিতে উঠার আগে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে পায়ে হেঁটে ফেরিতে উঠবেন বলে জানান।

যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জনের মরদেহ শনাক্ত শেষে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা প্রশাসন।

গতকাল বুধবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ৩ নম্বর পন্টুনে বাসটি নদীতে পড়ে যায়। ঘটনার পর ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে ওঠেন।

নৌ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসটিতে ৪৫ জনের মতো যাত্রী ছিলেন। ফেরিতে ওঠার সময় বাসটি নদীতে পড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু কর। নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারের চেষ্টা চলে।

ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা এসে পৌঁছালেও এখনো উদ্ধার অভিযান শুরু করতে পারেনি। এতে নিখোঁজদের স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন।

টিটি/এমকেআর