রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে সবজি নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কিশোরগঞ্জের কৃষকরা। ব্যবসা না থাকায় সবজি ব্যবসায়ী ও পাইকাররাও হয়েছেন দিশাহারা। টানা অবরোধ-হরতাল কর্মসূচির কারণে ট্রাক ও ট্রান্সপোর্ট সুবিধা না থাকায় পাকুন্দিয়ার সবজি ক্ষেতেই নষ্ট হচ্ছে। যদিও কোনো কোনো সময় এক-দুটি ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা যেতে রাজি হলেও ভাড়া দ্বিগুণ গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এ অবস্থায় হতাশায় আছেন এ অঞ্চলের সবজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় ২০ হাজার মানুষ। সরেজমিন উপজেলার তারাকান্দি, জাঙ্গালিয়া ও নতুন বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সবজিচাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সবজি উৎপাদনের ভরা মৌসুমে হরতাল-অবরোধে তাদের স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। পাকুন্দিয়ার সবজি ঢাকার কারওয়ান বাজারসহ দেশের বড় বড় শহর ও বিদেশেও রফতানি হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সবকিছু ভেস্তে গেছে। স্থানীয় পাইকাররা জানান, সারা বছরের মধ্যে এই সময়ে ব্যবসা করে তারা পরিবারের অর্থনৈতিক চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। টানা অবরোধের কারণে বর্তমানে তারা মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। অনেকেই পুঁজি ভেঙে পরিবার চালাচ্ছেন। দেশের চলমান পরিস্থিতিতে টানা অবরোধ ও হরতালে সবজি সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছেন এখানকার ব্যবসায়ীরা। আগে যেভাবে অহরহ গাড়ি পাওয়া যেত, তা এখন পাওয়া যায় না। হরতাল-অবরোধের মধ্যে গাড়ির মালিক ও চালকরা ঢাকায় যেতে অনীহা প্রকাশ করেন। চরকাওনা নতুন বাজারের সবজি ব্যবসায়ী ছিলু মিয়া জানান, প্রতি কেজি শিম ৮-৯ টাকা ধরে কিনেছেন। ঢাকায় নিয়ে তা বিক্রি করবেন সর্বোচ্চ ১১-১২ টাকা দরে। এতে ভাড়া ও শ্রমিক খরচ বাদ দিয়ে যা পাওয়া যাবে তা খুবই সামান্য। একই কথা বলেন, সবজি ব্যবসায়ী আলাল মিয়া। টানা অবরোধ-হরতালে গাড়ি না পাওয়ায় দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে বিকল্প গাড়ি ব্যবস্থা করে তার লোকসান গুনতে হয়েছে।এএইচ/আরআইপি