স্বপন মিয়া (৪২)। পেশায় পত্রিকা বিক্রেতা। ভাড়া বাসায় থাকেন কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা মহাজন বাড়িতে। স্কুলপড়ুয়া এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে তার অভাবের সংসার চলে পত্রিকা বিক্রির মাধ্যমেই। স্বপন মিয়া ২৬ বছর ধরে কুমিল্লা মহানগরীতে পত্রিকা বিক্রি করে আসছেন। এর পাশাপাশি নিজেকে একজন সমাজসচেতন কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন তার ব্যতিক্রমী বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে। নিজের পত্রিকা বিক্রির টাকা দিয়ে সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরে লিফলেট বিতরণ করছেন সাধারণ মানুষের কাছে। আবার কখনো বিভিন্ন অনিয়মের ছবি সম্বলিত ব্যান্যার-ফেস্টুন নিয়ে হেঁটে বেড়ান পুরো শহর, করেন সাইকেল র্যালি। এভাবেই সমাজের মানুষকে নানাভাবে সচেতন করেন স্বপন মিয়া। এই কাজের জন্য মানুষের কাছে ইতোমধ্যে বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। দুদিন ধরে তিনি ‘আমাদের নৈতিক শিক্ষার বড়ই অভাব’ ফেস্টুন নিয়ে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বেড়ান। জানা যায়, স্বপন মিয়া একজন পত্রিকা বিক্রেতা হয়েও নিজের কষ্টের অর্থ খরচ করে সমাজকে সচেতনে কাজ করে যাচ্ছেন। দুর্ঘটনা, যানজট, হত্যাসহ যেকোনো অপরাধ মানুষের নীতি-নৈতিকার মূল্যবোধ জাগাতে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। এ বিষয়ে স্বপন মিয়া বলেন, ‘আসলে আমি শুধু পত্রিকাই বিক্রি করি না পাশাপাশি একজন ভালো পত্রিকা পাঠকও। আমি নিজে বেশি দূর পড়ালেখা করতে পারিনি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে ওঠার পরই পারিবারিক অভাবের তাড়নায় আমার পড়ালেখার ইতি ঘটে। কিন্তু তারপরও আমি পত্রিকা বিক্রির পাশাপাশি পত্রিকা পড়ি ‘ প্রতিদিন কুমিল্লার স্থানীয় পত্রিকাসহ সব জাতীয় পত্রিকায় চোখ বুলিয়ে নেই। দেশে প্রতিদিন অনিয়ম ঘটেই চলছে। এসব বিষয় যেন দেখার কেউ নেই। দেশে আইন আছে, কিন্তু আইনের যথার্থ প্রয়োগ নেই। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ১৯৯৯ সাল থেকে মানুষকে সচেতন করার জন্য কাজ করছি। এই লক্ষে অামি পত্রিকার বিভিন্ন সংবাদ সংগ্রহ করে সর্বপ্রথম ‘রানা প্লাজা’র অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য মানুষকে সচেতন করি। এ ধরনের সমাজসেবামূলক কাজ করতে কারো কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ধরনের কাজে আমি কারো কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি, পত্রিকা বিক্রির টাকা দিয়েই আমি আমার দায়িত্ব পালন করি। তবে কেউ যদি আমার পাশে থাকতে চায় তাহলে তাকে আমি স্বাগত জানাবো। সমাজে এত অসঙ্গতি অথচ এসব বিষয়ে এগিয়ে এসে আমার পাশে দাঁড়াবার কেউ নেই। ব্যাপারটি আমাকে খুবই দুঃখ দেয়।এফএ/এবিএস