কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি. থেকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের অনুমোদন নিয়ে বছরের পর বছর ধরে কোটি কোটি টাকা লুটে নিয়েছে মালিকরা। সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লাঞ্চলের ১০টি সিএনজি স্টেশনের অবৈধ সংযোগ ও মিটার কারসাজির মাধ্যমে গ্যাস চুরির বিষয়টি প্রমাণীত হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর বেরিয়ে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টায় কুমিল্লার বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।গ্যাস চোরদের বিরুদ্ধে গত ৩ সপ্তাহের অভিযানের সফলতা ও গ্যাস চুরির সঙ্গে জড়িত সিএনজি মালিক ও বাখরাবাদের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার বিষয় তুলে ধরতে ওই সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাখরাবাদ এমডি জানান, পৃথক এসব অভিযানে এরই মধ্যে ১০টি সিএনজি স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িত থাকায় মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) প্রকৌশলী এহসানুল হক পাটোয়ারীকে খুলনার সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানিতে বদলী করা হয়েছে। জড়িত অন্যান্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।এমডি আরও জানান, গ্যাস চুরির অভিযোগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর বিশ্বরোডের ঝাগুর-ঝুলির রাহমা সিএনজি ফিলিং স্টেশন, দেবিদ্বারের কুমিল্লা সিএনজি স্টেশন, ২৭ সেপ্টেম্বর সুয়াগঞ্জ ভূঁইয়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ৮ অক্টোবর নিমসার সৈয়দপুর-ডুবাইচরের নূর-অ্যান্ড-ব্রাদার্স সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও আলেখার চর এলাকার সাবুরিয়া সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ৯ অক্টোবর বুড়িচং কালাকচুয়ার সাকুরা সিএনজি ফিলিং স্টেশন, ১০ অক্টোবর মিয়াবাজার হাইওয়ে লিংক সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও চান্দিনার আরএনআর সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং সর্বশেষ ৭ অক্টোবর পদুয়ার বাজার রিভার ভিউ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং ঝাগুর ঝুলির মুক্তি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা ১০টি সিএনজি স্টেশন প্রতিদিন যদি ৮০ ভাগ চাপে গ্যাস বিক্রি করে থাকে তাহলে মাসে তারা ৩ কোটি টাকার গ্যাস চুরি করেছে। আর যদি ১০০ ভাগ চাপে গ্যাস বিক্রি করে থাকে তাহলে ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার গ্যাস চুরি করেছে। যা বছরে ৩৬ কোটি টাকারও বেশি বলেও জানান তিনি। উল্লেখ্য, বাখরাবাদ থেকে ৮৮টি সিএনজি পাম্পে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা অফিসের আওতায় ৪৭টি, গৌরীপুর অফিসের আওতায় ৬টি, দেবিদ্বার অফিসের আওতায় ৩টি, লাকসাম অফিসের আওতায় ১টি, চাঁদপুর অফিসের আওতায় ৫টি, নোয়াখালী অফিসের আওতায় ৭টি, ফেনী অফিসের আওতায় ১২টি, লহ্মীপুর অফিসের আওতায় ২টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া অফিসের আওতায় ৫টি সিএনজি স্টেশনে গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে গত ৩ সপ্তাহে ১৬টি স্টেশনে অভিযান চালিয়ে ১০টিতে অবৈধ সংযোগ ও গ্যাস চুরির বিষয়টি প্রমাণীত হওয়ায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মিটার কর্তন করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মো. ইউসুফ আলী, মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) প্রকৌশলী মোল্লা আবদুল ওয়াদুদ, মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী আবুল হাসানাত, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) প্রকৌশলী নারায়ন চন্দ্র পাল, উপ-মহা ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) নাইমুল আলম খাঁন। কামাল উদ্দিন/এফএ/পিআর