দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় সরকারি চাল উদ্ধার : ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজির ১৮৩ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদের অভিযোগে ডিলারসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফুলছড়ি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল হক বাদী হয়ে ফুলছড়ি থানায় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন, ফজলুপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সংশ্লিষ্ট ডিলার মো. আজাহার আলী, তার তিন ভাই মোজাম্মেল হক, আবদুল হাই, আবদুল মোতাল্লেব ও সহযোগী বাড়ী মালিক মোকারম আলী মৃধা ও আলম শেখ। তারা সবাই দক্ষিণ খাটিয়ামাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। বুধবার দুপুরে ফুলছড়ি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল খালেক মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে জানান, ফজলুপুর ইউনিয়নে ডিলার আজাহার আলীসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ডিলারসহ তার সহযোগীরা পলাতক থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেফতারে তৎপর রয়েছে পুলিশ। এরআগে, মঙ্গলবার সকাল বেলা ১১টার দিকে ফজলুপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খাটিয়ামাড়ি (তালতলা) বাজারের পশ্চিমে মোকারম আলী মির্জার বাড়ি থেকে খাদ্য কর্মসূচির সাড়ে ৮ মেট্রিক টন ওজনের ১৫৯ ও আলম মিয়া বাড়ী থেকে ২৪ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। ফজলুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীন জালাল জাগো নিউজকে জানান, ডিলার আজাহার আলী ও ট্যাগ অফিসার আল মামুন যোগসাজসে ৫৩৩ হতদরিদ্রদের দ্বিতীয় কিস্তির চাল খাদ্যগুদাম থেকে উত্তোলন করেন। এরপর চাল বিতরণ হয়েছে মর্মে ট্যাগ অফিসার আল মামুনের সহযোগিতায় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তার নিকট মাস্টাররোল জমা দেওয়া হয়। কিন্তু ডিলার আজাহার আলী হতদরিদ্রদের মাঝে কার্ড ও চাল বিতরণ না করে চালগুলো আত্মসাতের চেষ্টায় অন্যের বাড়িতে মজুদ করে রাখেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দিলে প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে ১৮৩ বস্তা চাল উদ্ধার করে। ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আবদুল হালিম টলস্টয় জাগো নিউজকে জানান, উদ্ধার করা চালগুলো ইউপি সদস্য হুকুম আলীর হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় ডিলারসহ ছয় জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া আজাহার আলীর ডিলার শিপ বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে। এফএ/পিআর