দেশজুড়ে

যশোরে শিশুশ্রমে নিয়োজিত ৩৫ হাজার শিশু

যশোর জেলায় শিশুশ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রায় ৩৫ হাজার শিশু। এর মধ্যে প্রায় ১৬ হাজারই ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমে নিয়োজিত। যারা প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিকসহ নানা ধরণের মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে দিনযাপন করছে। সোমবার আব্দুর রশিদ খান ঠাকুর ফাউন্ডেশন (এআরকেটিএফ) পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এআরকেটিএফ প্রজেক্ট কর্মকর্তা আব্দুর রহমান জানান, যশোরে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হ্রাসের মাধ্যমে শিশুর সুরক্ষা ও উন্নয়ন সাধন প্রকল্পের আওতায় তারা শিশুশ্রমের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরি করেছেন। জরিপ অনুযায়ী, যশোরে প্রায় ৩৫ হাজার শিশু বিভিন্ন ধরনের শ্রমের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমেই নিয়োজিত রয়েছে প্রায় ১৬ হাজার শিশু। সবচেয়ে বেশি বাস-ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ করছে। তাদের সংখ্যা তিন হাজার ১৭৪ জন। এছাড়া লেদ শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে দুই হাজার ৭৬২ জন, অটোমোবাইল ওয়ার্কসপে এক হাজার ৮৯৫ জন, স্টিল, গাড়ি ও মেটাল ফার্ণিচার শ্রমিক হিসেবে এক হাজার ৮৯৪ জন, নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে ১৬৪৮ জন, ওয়েল্ডিং শ্রমিক ৯৭৩ জন, বৈদ্যুতিক সামগ্রী উৎপাদন কর্মী ৪০৬ জন, পাথর ভাঙা শ্রমিক ৩৮৮ জন, ব্যাটারি রিচার্জ শ্রমিক হিসেবে কর্মরত রয়েছে ৩৭২ জন। এছাড়াও বিভিন্ন কারখানা, মিল, ওয়ার্কসপে শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। এদিকে, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রম হ্রাসের মাধ্যমে শিশুর সুরক্ষা ও উন্নয়ন সাধন প্রকল্পের আওতায় সোমবার যশোরে প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম এবং শিশুশ্রম বিষয়ক নীতিমালার উপর এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। আব্দুর রশিদ খান ঠাকুর ফাউন্ডেশন (এআরকেটিএফ) এর আয়োজনে সংস্থার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপদেষ্টা খন্দকার মকছুদুল হকের সভাপতিত্বে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন, নির্বাহী পরিচালক প্রদীপ মার্সেল রোজারিও।আলোচনা করেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর যশোর অঞ্চলের উপ-পরিচালক নাজমুল কবীর, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা সাধন কুমার দাস, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক রাহেনুর ইসলাম, সমাজসেবা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক অসিত কুমার সাহা, সহকারী তথ্য কর্মকর্তা জাহারুল ইসলাম প্রমুখ।মিলন রহমান/এআরএ/আরআইপি