দেশজুড়ে

সাদুল্যাপুরে ২৩২ জনের সংশোধিত তালিকা জমা

গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার ৩নং দামোদরপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর ইউএনও মো. আহসান হাবীবের নির্দেশে অবশেষে ২৩২ জনের সংশোধিত তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। দামোদরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজেডএম সাজেদুল ইসলাম স্বাধীন স্বাক্ষরিত ১২২০ জনের মধ্যে ২৩২ জনের সংশোধিত তালিকা অনুসন্ধানে দেখা যায়, তালিকার ৬৩৯নং ক্রমিকে দামোদরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেনের স্ত্রী নাজমা বেগম, ৮৮৭ নং ক্রমিক থেকে পর্যায় ক্রমে তার ছোট ভাই সনজু মিয়া, মনজু মিয়া ও রনজু মিয়ার নাম রয়েছে। তালিকার ২ ও ৩ নং ক্রমিকে একই পরিবারের মা ও ছেলে, ১৫০, ১৫১, ২৯৯, ৩০০, ৫৪৭, ৫৪৮, ৫৪৯, ৫৮০ ও ৫৮১ নং ক্রমিকে পর্যায়ক্রমে কয়েক পরিবারের সহোদরের নাম রয়েছে। এছাড়া ৪৯১ ও ৪৯৪ নং ক্রমিকে একাধিক নারীকে (ঢাকায় থাকেন, তাদের ভোটার আইডি কার্ড ঢাকার ঠিকানা) তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েনি ব্যবসায়ী, পাকা বাড়ির মালিক ও স্বচ্ছল ব্যক্তিদের নাম। অনেক স্বচ্ছল ব্যক্তির পরিবর্তে স্ত্রীর নাম এবং একই পরিবারের একাধিক সহোদরের নাম রয়েছে। আবার আগের তালিকায় বাবার নাম ছিল, এখন বাবার পরিবর্তে ছেলের নাম অন্তর্ভূক্ত হয়েছে। সাদুল্যাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আহসান হাবীব জানান, তালিকা সংশোধণীর পরেও কোনো অনিয়ম, একই পরিবারের একাধিক সদস্য ও স্বচ্ছল ব্যক্তির নাম পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড মেম্বার ও সংশ্লিষ্ট কার্ডধারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে, প্রকৃত গৃহহীন ও হতদরিদ্র অনেকের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতা, চেয়ারম্যান, মেম্বার, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ তালিকা প্রণয়ণ কমিটি স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে স্বচ্ছল ও একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তির নাম অন্তর্ভূক্ত করেছেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিকে যারা বিতর্কিত করছে তাদের এবং তালিকাভুক্ত স্বচ্ছল ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা। প্রসঙ্গত, দামোদরপুর ইউনিয়নে ১২২০ জনের তালিকায় একাধিক আওয়ামী লীগ নেতা, নেতার ভাই, চাকরিজিবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, সাবেক মেম্বার, শিক্ষকের স্ত্রী, বড় ব্যবসায়ী ও স্বামী-স্ত্রী এবং মেয়েসহ স্বচ্ছল ব্যক্তিরা তালিকাভুক্ত হয়ে প্রথম কিস্তির চাল উত্তোলন করেন। এ নিয়ে গত ৯ অক্টোবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এফএ/এমএস