দেশজুড়ে

সিসি ক্যামেরা বাঁচিয়ে দিল ব্যবসায়ীকে

যশোরের চৌগাছায় সোর্সের মাধ্যমে দোকানে ইয়াবা রেখে ব্যবসায়ীকে আটক করতে গিয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। বুধবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনাটি ঘটেছে যশোরের চৌগাছা বাজারে।প্রথমে সোর্সের মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ইয়াবা রাখে পুলিশ। এরপর সোর্স দোকান থেকে বের হলে পাশেই অবস্থান করা এএসআই সিরাজুল ইসলাম সেখানে হানা দেন। এরপর ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে এগিয়ে আসেন অন্য ব্যবসায়ীরা। তারা সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন এবং ঘটনার রহস্য বেরিয়ে আসে। এরপরই পুলিশকে গণপিটুনি দেওয়া শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা পুলিশের এ ঘৃণ্য কাজের প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে দোকান বন্ধ করে চৌগাছা শহরে মিছিল করেন।স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, বুধবার দুপুরে চৌগাছা থানা পুলিশের এএসআই সিরাজুল ইসলাম শহরের মেইন রোডে অবস্থিত ‘সুপার ইলেক্ট্রিক অ্যান্ড ভ্যারাইটিজ’ নামে একটি দোকানে সোর্স পাঠিয়ে দশ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে দেন। আর এএসআই সিরাজুল দোকানের অদূরে অপেক্ষা করছিলেন। সোর্স দোকানের মধ্য থেকে বের হলেই এএসআই সিরাজুল ইসলাম সেখানে যান। তিনি দোকান মালিক রাবণ কুমারকে ‘দোকানে ইয়াবা রাখার অপরাধে’ আটক করে নিয়ে যেতে উদ্যত হন। এসময় হইচই শুনে পাশের দোকানের মালিক-কর্মচারীরা এগিয়ে আসেন। দোকান মালিক রাবণ কুমার বলতে থাকেন, আমি মাদকের কারবার করি না। নিশ্চয় আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।তখন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করার পরামর্শ দেন। ফুটেজ দেখার সময় এএসআই সিরাজ ও তার অজ্ঞাতনামা সোর্স দোকান থেকে পালাতে উদ্যত হন। এসময় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও জড়ো হওয়া জনতা এএসআই সিরাজকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি দোকান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। বাজারে এ খবর শুনে অল্প সময়ের মধ্যে শত শত ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে এসে এএসআই সিরাজের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। সংবাদ পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) মারুফ আক্তারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এসময় চৌগাছা পৌরসভার মেয়র নূরউদ্দীন আল মামুন হিমেল ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইবাদৎ হোসেন ঘটনাস্থলে এসে ব্যবসায়ীদের শান্ত হতে অনুরোধ করেন। তারা ‘ঘটনার বিচার হবে’ বলে আশ্বাস দিলে ব্যবসায়ীদের শান্ত করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা বাজারে দোকানপাট বন্ধ রাখেন। মারুফ আক্তার জানান, এ ঘটনায় এএসআই সিরাজুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ লাইনসে ক্লোজ করা হয়েছে।মিলন রহমান/এমএএস/আরআইপি