কুষ্টিয়ার নির্ভৃত পল্লীতে আলো ছড়ানো হোমিও চিকিৎসক ডা. সানাউর রহমান ওরফে সানাউল্লাহকে হত্যা করেছে নিউ জেএমবির সদস্যরা। গত শনিবার আলোচিত এই হত্যা মামলায় চার জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতাররা হচ্ছেন- আজিজুল, সাইফুল, জয়নাল এবং সাইজুদ্দিন। এর মধ্যে দুই জেএমবি আজিজুল ও সাইজুদ্দিন কুষ্টিয়া আমলি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। হোমিও চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা নিউ জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার টুলু মোল্লা রোববার ভোর রাতে কুষ্টিয়া শহরতলীর কবুরহাট এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এদিকে চিকিৎসক সানাউল্লাহ হত্যাকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তিনজন বাইক হাসান রাজশাহীতে, বিকাশ গুলশানের হলি আর্টিসান এবং শফিউল ইসলাম ওরফে ডন শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে হামলার ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এছাড়া চিকিৎসক হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়া মুসা ওরফে রবিন ওরফে তালহাসহ চার-পাঁচজন জেএমবি সদস্য এখনো পলাতক বলে পুলিশ জানিয়েছে। শুধু চিকিৎসক ছানাউল্লাহ নয়, এই অঞ্চলে আরো একাধিক হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করার ছক এঁকেছিল জিএমবির সদস্যরা। সোমবার দুপুরে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি এম এম মনিরুজ্জামান (বিপিএম) সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হোমিও চিকিৎসক ডা. সানাউর রহমান ওরফে সানাউল্লঅহ হত্যাকাণ্ড ও একই দিন বোমা বিস্ফোরণে স্কুলছাত্র নাইমূল ইসলাম নিহতের ঘটনায় পুলিশ আজিজুল, সাইজুদ্দিন, সাইফুল ও জয়নালকে গ্রেফতার করে। এদের স্বীকারোক্তিতে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী হিসেবে নিউ জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার টুলু মোল্লার নাম জানতে পারে পুলিশ। রোববার ভোরে কুষ্টিয়া শহরতলীর কবুরহাট এলাকায় ডিবি পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিউ জেএমবির আঞ্চলিক কমান্ডার টুলু মোল্লা নিহত হন। সংবাদ সম্মেলনে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি এম এম মনিরুজ্জামান জানান, হোমিও চিকিৎসক ডা. সানাউর রহমান ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসি নন, নামাজ-কালাম পড়তেন না, খ্রিস্টান ধর্মের অনুসারি ছিলেন এমন বিশ্বাস থেকে নিউ জেএমবির সদস্যরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আইএস’র দেয়া বিবৃতি সঠিক নয় বলেও তিনি দাবি করেন। গত ২০ মে ডা. সানাউর রহমান সদর উপজেলার সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বটতৈল এলাকায় তার বাগানবাড়িতে যাওয়ার পথে শিশির মাঠ নামক স্থানে জঙ্গি হামলায় ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় গুরুতর জখম হন তার বন্ধু ইবির শিক্ষক সাইফুজ্জামান। এদিকে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে পালানোর সময় কবুরহাটে ফেলে যাওয়া বোমা বিস্ফোরিত হয়ে স্কুলছাত্র নাইমূল ইসলাম নিহত হয়। সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার প্রলয় চিসিম ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়নাল আবেদীন উপস্থিত ছিলেন। আল-মামুন সাগর/এএম/এবিএস